
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন জিতে বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর বিধানসভায় দলীয় নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন দলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। খবর এনডিটিভির।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র আস্থাভাজনদের মধ্যে অন্যতম শোভনদেব। এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ায় বিধানসভায় জায়গা হয়নি মমতার। ফলে বিরোধী শিবিরে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শোভনদেবকেই।
বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বিজেপি প্রার্থী শতরূপা চট্টোপাধ্যায়কে ৬১ হাজার ৪৭৬ ভোটে হারিয়ে টানা দশমবারের মতো বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে একই আসন থেকে টানা এতবার জয় পাওয়ার নজির আর কারও নেই।
১৯৪৪ সালে জন্ম নেওয়া শোভনদেব তরুণ বয়সে বক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি কংগ্রেসে। কর্মজীবনের শুরুতে কলকাতা পৌরসভায় চাকরিও করেছেন তিনি। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বারুইপুর থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। পরে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে কংগ্রেস ছাড়েন।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটির সঙ্গে আছেন শোভনদেব। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক রাজনীতিতেও সক্রিয়। বর্তমানে কলকাতা অটো-রিকশা চালক ইউনিয়নের সভাপতি এবং তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি’র প্রতিষ্ঠাতাদের একজন তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আনুগত্যের বড় উদাহরণ দেখা যায়। সে সময় ভবানীপুরে জয়ের পর মমতার অনুরোধে নিজের আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন শোভনদেব। পরে খড়দহ উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার বিধানসভায় ফেরেন তিনি। এবার মমতার অনুপস্থিতিতে বিরোধী রাজনীতিতে তাঁর নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।








































