
মুখ্যমন্ত্রী পদে মূলত তিনজনের নাম আলোচনায় রয়েছে—ভেনুগোপাল, সতীশান এবং প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথালা
কেরালায় বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার এক সপ্তাহ পরও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করতে পারেনি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। এ নিয়ে দলটির ভেতরে অস্থিরতা ও প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
কেরালার বিভিন্ন এলাকায় এখন পোস্টার, বিক্ষোভ ও পাল্টা বিক্ষোভ চলছে। একাংশ চাইছে দলটির কেন্দ্রিয় সংগঠন মহাসচিব কে সি বেনুগোপাল মুখ্যমন্ত্রী হোন। অন্যদিকে সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা ভি ডি সতীশান ন্যাচারাল চয়েস হিসেবে তুলে ধরছেন তার সমর্থকেরা।
১৪০ সদস্যের কেরালা বিধানসভায় ইউডিএফ ১০২টি আসন জিতে বড় জয় পেয়েছে। এর মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে ৬৩টি আসন। কিন্তু এত বড় জয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা দলটির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পদে মূলত তিনজনের নাম আলোচনায় রয়েছে—ভেনুগোপাল, সতীশান এবং প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথালা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে সতীশানের প্রতি তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সমর্থন বেশি।
বিশ্লেষকদের দাবি, সতীশান প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় গ্রুপিংয়ের বদলে জয়ের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে কংগ্রেস একাধিক উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়, যা তাকে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে সামনে এনেছে।
অন্যদিকে ভেনুগোপালের বড় শক্তি হলো কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এ কারণে নির্বাচিত বিধায়কদের সিংহভাগ তাকে সমর্থন করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অনেক বিধায়ক জনসম্মুখে গেলে মানুষ তাদের কাছে জানতে চাইছেন, কেন এখনো সরকার গঠন করা হচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই টানাপোড়েনে কংগ্রেসের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে নির্বাচনে পরাজিত বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে, কারণ এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল






































