রবিবার । মে ১৭, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৭ মে ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরে নীতিগত অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর


PM Cricket

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বিপুল আর্থিক চাপ সামাল দিতে এটি একসঙ্গে নয়, তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এ কারণে প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এজন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের কাঠামো, খাতভিত্তিক ব্যয় এবং রাজস্ব আহরণের পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। সবদিক পর্যালোচনা শেষে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, জুলাই থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন। অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়াতেও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতনের অর্ধেক বৃদ্ধি কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপে বাকি ৫০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সমন্বয় করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।

এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বর্তমানে দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন-ভাতায় বছরে সরকারের ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

খসড়া সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরির ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে। তবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে গ্রেডভেদে বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত কমিয়ে ১:৮–এ নামিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।