শনিবার । মে ১৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

বিদ্যুতের দাম ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব


power

ফাইল ছবি

পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার। ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের বিলের বর্তমান ধাপ বা স্ল্যাব একীভূত করা, বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক বিলের আওতায় আনাসহ গণশুনানি ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) জমা দেওয়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এবং বেশ কয়েকটি বিতরণ কোম্পানির প্রস্তাবে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এই প্রস্তাব অনুমোদন হলে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৯৫ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক সরাসরি এর প্রভাবের মুখে পড়বেন।

সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নতুন এই প্রস্তাব কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে পড়বে মাসে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। অধিকাংশ সংস্থাই আগামী ১ জুন থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর করার আবেদন জানিয়েছে।

জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান লোকসানের কারণ দেখিয়ে পিডিবি পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ বাড়াতে চায়। অন্যদিকে, বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্রাহক পর্যায়ে (খুচরা) ১৫ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে।

বিদ্যমান ট্যারিফ কাঠামোর কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিতরণ সংস্থাগুলোর সম্মিলিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, দ্রুত দাম সমন্বয় না করা হলে আগামী অর্থবছরে এই ঘাটতি ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে প্রতি ছয় মাস পরপর গণশুনানি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে বিল নির্ধারিত হয়, যেখানে প্রথম ৭৫ ইউনিটের দাম সবচেয়ে কম। পিডিবি এখন শূন্য থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত একটিমাত্র ধাপ বা স্ল্যাব করার প্রস্তাব দিয়েছে। এর ফলে ৭৫ ইউনিটের বেশি ব্যবহারকারীরা প্রথম ধাপের কম দামের সুবিধাটি পুরোপুরি হারাবেন।

হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারী একজন গ্রাহক ধাপে ধাপে ১ হাজার ২৯৪ টাকা ৫০ পয়সা বিল দেন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী শুধু ধাপ বদলের কারণেই এই বিল ১৪৫ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে যাবে। এর সঙ্গে পিডিবির প্রস্তাবিত নতুন দর যুক্ত হলে ওই গ্রাহকের বিল একলাফে ৩৪৫ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে ১ হাজার ৬৪০ টাকা হবে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে প্রচলিত বাণিজ্যিক ট্যারিফের দ্বিগুণ হারে বিল দিতে হবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও বাণিজ্যিক রেটের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া ইজিবাইক চার্জিং স্টেশনের আলাদা ট্যারিফ বাতিল করে সরাসরি বাণিজ্যিক রেট বসানোর প্রস্তাব করেছে ওজোপাডিকো।

গ্রাহকদের বিভিন্ন সুবিধার ওপরও কোপ বসানোর প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি রিচার্জে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়, যা বাতিল বা কমানোর আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিপিডিসি প্রিপেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নতুন করে জামানত বা সিকিউরিটি চার্জ আরোপের কথা বলেছে।