শনিবার । মে ১৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজনীতি ১৬ মে ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার

সরকারের পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণাকে সাধুবাদ জামায়াত আমিরের


shafiqur-rahman

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ায় সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে এই ঘোষণা যেন শুধু লোকদেখানো না হয়, সেই হুঁশিয়ারি দিয়ে পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনাও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই জনসভার আয়োজন করে।

সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, শুকনো মৌসুমে পদ্মা নদী এখন মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে, আর বর্ষায় তা হয়ে উঠছে জনগণের দুর্ভোগের কারণ। ভারতের সাথে অভিন্ন নদীর পানির হিস্যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রথম সরকার মাত্র ১৫ দিনের জন্য ফারাক্কা বাঁধ চালানোর সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু দীর্ঘ ৫৫ বছরেও সেই ১৫ দিন শেষ হয়নি।

নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সারাদেশে ১৫৪টি অভিন্ন নদী আজ মৃতপ্রায়। নদী ঠিকমতো না চললে খালের পানি আসবে কোত্থেকে? তাই সরকারকে সবার আগে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দিকে নজর দিতে হবে, পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী খালকাটা কর্মসূচিও বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

পার্শ্ববর্তী দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে আমরা সবাইকে সম্মান করি এবং ধর্মের ভিত্তিতে সেখানে কোনো বিভাজন বা অশান্তি হোক তা আমরা চাই না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেখানে শুধু মুসলিম পরিচয়ে মানুষকে নাজেহাল করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের দিকে লাল চোখ দেখানো হচ্ছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই বাংলাদেশ তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহ ও শাহ মখদুমের বাংলাদেশ। এই দেশের দিকে কেউ চোখ রাঙাবেন না। আপনারা আমাদের শান্তি নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কারো শান্তিই থাকবে না। তিনি স্পষ্ট করেন, এই দেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যেকোনো কালো হাত রুখে দিতে প্রস্তুত।

জনগণকে দেশের ‘সাচ্চা পাহারাদার’ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেই আমাদের অধিকার আদায় করতে হবে, কেউ তা পকেটে এনে দেবে না। যারা দেশের সম্পদ লুটপাট করছে, সেই সব দুর্নীতিবাজ আর চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্য ও গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের ধরে উত্তম মেহমানদারী শেষে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে হবে। সরকার তা করবে না, কারণ শর্ষের ভেতরেই ভূত লুকিয়ে আছে। জান দিলেও দেশের মান দেওয়া হবে না বলে তিনি নেতাকর্মীদের শপথ করান।

১১ দলীয় ঐক্যের এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক এবং সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। সমাবেশে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ রাজশাহী ও আশপাশের বিভিন্ন জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।