রবিবার । মে ১৭, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৭ মে ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার

যুদ্ধ বন্ধে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ শর্ত


usa-iran

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসন ও একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইরানকে পাঁচটি মূল শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রোববার (১৭ মে) মিডল ইস্ট মনিটর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইরানকে কেবল একটিমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। তবে তেহরানের নিজস্ব কিছু দাবি ও শর্ত থাকায় এই সম্ভাব্য চুক্তিকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেওয়া বাকি শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা দণ্ড দিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ কিলোগ্রাম ইরানি ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি করা।

একই সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জব্দকৃত সম্পদের মাত্র ২৫ শতাংশ অবমুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যার অর্থ বাকি ৭৫ শতাংশ সম্পদই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়া সব রণাঙ্গনে চূড়ান্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়টি চলমান আলোচনার সামগ্রিক ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল রাখার শর্তও জুড়ে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধ পুরোপুরি অবসান করতে হবে এবং ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। এর পাশাপাশি জব্দকৃত সব ইরানি সম্পদ সম্পূর্ণ মুক্ত করা, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের পূর্ণ স্বীকৃতি দাবি করেছে তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংকটের সূত্রপাত হয় গত ফেব্রুয়ারিতে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে এবং জবাবে তেহরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন, যারই ধারাবাহিকতায় এখন পর্দার আড়ালে এই শর্তের লড়াই চলছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর