রবিবার । মে ১৭, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৭ মে ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ন
শেয়ার

কঙ্গোতে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস, জরুরি অবস্থা ঘোষণা


Ebola

এবারের সংক্রমণ ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাস থেকে ছড়িয়েছে

কঙ্গোতে উদ্বেগজনকভাবে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা ভাইরাস। যাকে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে দ্রুত সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত প্রায় ২৪৬ জনের মধ্যে ইবোলা সংক্রমণের সন্দেহ পাওয়া গেছে এবং যার মধ্যে অন্তত ৮০ জন মারা গেছেন। যদিও ডব্লিউএইচও বলছে, পরিস্থিতি এখনো বৈশ্বিক মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

ডব্লিউএইচও প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছেন, আক্রান্ত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ ভাইরাসটি কতদূর ছড়িয়েছে, তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।

স্বাস্থ্য সংস্থাটি বলছে, এবারের সংক্রমণ ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনের ইবোলা ভাইরাস থেকে ছড়িয়েছে। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই।

সংক্রমণ ইতোমধ্যে কঙ্গোর কয়েকটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাজধানী বুনিয়া এবং স্বর্ণখনি এলাকা মংগওয়ালু ও রোয়ামপারা।

শুধু কঙ্গোতেই নয়, প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ইবোলা শনাক্ত হয়েছে। সেখানে দুইজনের শরীরে ভাইরাসটি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৯ বছর বয়সী একজন মারা গেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় মানুষের যাতায়াত বেশি হওয়ায় ভাইরাস আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই ডব্লিউএইচও কঙ্গো ও উগান্ডাকে জরুরি ব্যবস্থা নিতে বলেছে। আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া, নজরদারি বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে ডব্লিউএইচও বলেছে, এখনই আতঙ্কে সীমান্ত বন্ধ করা বা ভ্রমণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। কারণ এমন পদক্ষেপে খুব একটা লাভ হয় না।

ইবোলা একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে ছড়ায়। শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা, গলা ব্যথা ও শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। পরে বমি, ডায়রিয়া, রক্তক্ষরণ এবং অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে।

ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী, ইবোলায় আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই মারা যান। গত ৫০ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ডিআর কঙ্গোতে সবচেয়ে ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাব হয়েছিল ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। তখন প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ মারা যান।