
প্রায় এক লাখ বর্গফুটের ভবনে রয়েছে সবুজ লন, বড় ব্যাংকুয়েট হল, সেন্টার এবং ভূগর্ভস্থ পার্কিং ব্যবস্থা
প্রায় ২৫ বছর পর আবারও পশ্চিমবঙ্গে নির্ধারিত মুখ্যমন্ত্রী ভবন চালু হতে যাচ্ছে। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী খুব শিগগিরই সরকারি মুখ্যমন্ত্রী ভবনে উঠবেন।
দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত আলিপুর এলাকায় অবস্থিত একটি বিলাসবহুল সরকারি ভবনকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী ভবন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি বাসভবন নেই। শুভেন্দু অধিকারী যদি সেখানে ওঠার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ২৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ আবার স্থায়ী মুখ্যমন্ত্রী ভবন পাবে।
এর আগে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুই ছিলেন শেষ ব্যক্তি, যিনি সরকারি মুখ্যমন্ত্রী ভবনে থাকতেন। তিনি সল্টলেকের ‘ইন্দিরা ভবন’-এ বসবাস করতেন।
তার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি বাড়ির পরিবর্তে নিজেদের ব্যক্তিগত বাড়িতেই থেকেছেন।
মজার বিষয় হলো, কলকাতার যে ভবনে শুভেন্দু অধিকারী উঠবেন সেটি উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। ২০১৮ সালে এটি আন্তর্জাতিক মানের ভিভিআইপি অতিথি ভবন হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা ছিল।
প্রায় এক লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত এই ভবনে রয়েছে সবুজ লন, বড় ব্যাংকুয়েট হল, সংবাদ সম্মেলনের জন্য মিডিয়া সেন্টার এবং ৪০টি গাড়ি রাখার ভূগর্ভস্থ পার্কিং ব্যবস্থা।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে মুখ্যমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত বাড়িতে থাকার একটি দীর্ঘ ধারা ছিল। ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমদিকে জ্যোতি বসুও নিজের দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে থাকতেন। পরে ১৯৮৭ সালে তিনি ইন্দিরা ভবনে চলে যান।
২০০০ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তার পাম অ্যাভিনিউয়ের ছোট্ট ফ্ল্যাট ছাড়েননি। একইভাবে ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনো সরকারি মুখ্যমন্ত্রী ভবনে ওঠেননি। পুরো সময় তিনি কালীঘাটের পারিবারিক বাড়িতেই থেকেছেন।
বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর সেই দীর্ঘদিনের রীতি বদলাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল










































