
ছবি: সংগৃহীত
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। এই স্বস্তির জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের প্লে-অফে ওঠার আশা এখনো টিকিয়ে রাখল কলকাতা। অন্যদিকে কেকেআরের কাছে হেরে নিজেদের ব্যর্থতার গ্রাফটা আরও একবার প্রকট করল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স; অনেক আগেই আসর থেকে ছিটকে যাওয়া সাবেক চ্যাম্পিয়নদের হতাশার তালিকায় যোগ হলো আরও একটি পরাজয়ের গ্লানি।
টস জিতে প্রথমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান কেকেআর অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে। শুরু থেকেই মুম্বাইয়ের ব্যাটিং লাইনে দেখা যায় চরম বিপর্যয়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। অভিজ্ঞ ওপেনার রোহিত শর্মা মাত্র ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন এবং অপর ওপেনার রিয়াল রিকেলটন করেন মাত্র ৬ রান।
মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার মাঝে মুম্বাইয়ের হয়ে একমাত্র কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন করবিন বশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩২ রান আসে তার ব্যাট থেকে। কেকেআরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় মুম্বাই। শেষ পর্যন্ত ১৪৭ রাবে থামে তাদের ইনিংস। কলকাতার হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন সৌরভ দুবে, ক্যামেরন গ্রিন এবং কার্তিক ত্যাগী; তারা প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট নেন। এছাড়া অভিজ্ঞ স্পিনার সুনিল নারাইন শিকার করেন একটি উইকেট।
১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কেকেআরের শুরুটাও অবশ্য ভালো ছিল না। বিধ্বংসী ওপেনার ফিন অ্যালেন মাত্র ৮ রান করে ফিরে যান। অধিনায়ক রাহানে করেন ২১ রান এবং বল হাতে আলো ছড়ানো ক্যামেরন গ্রিন ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়ে ফেরেন মাত্র ৪ রানে। মাত্র ৫৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে একপর্যায়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় নাইট শিবির।
সেই কঠিন সময়ে দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ মণীষ পাণ্ডে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ব্যাটার রভম্যান পাওয়েল। এই দুই ব্যাটার মিলে ৬৪ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় কলকাতার দিকে ঘুরিয়ে দেন। মণীষ পাণ্ডে খেলেন ৪৫ রানের একটি কার্যকর ইনিংস। তবে এই বিপজ্জনক জুটিটি ভাঙেন মুম্বাইয়ের তারকা পেসার জশপ্রীত বুমরাহ।
এর কিছুক্ষণ পরেই ম্যাচে দেখা যায় অসাধারণ এক ফিল্ডিংয়ের মুহূর্ত। পাওয়েলের একটি দুর্দান্ত ক্যাচ বাতাসে ভেসে লুফে নিয়ে রীতিমতো চমকে দেন মুম্বাইয়ের করবিন বশ। তার সেই দর্শনীয় ক্যাচটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে করিয়ে দেয় কিংবদন্তি ফিল্ডার জন্টি রোডসকে। আউট হওয়ার আগে পাওয়েল করেন গুরুত্বপূর্ণ ৪০ রান।
শেষের দিকে ১২৪ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর তেজস্বী সিং মাত্র ১১ রান করে ডাগ আউটে ফিরলেও, রিঙ্কু সিং ও অনুকূল রায় বাকি কাজটা সেরে কেকেআরকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এই জয়ের ফলে প্লে-অফের রেসে টিকে থাকলেও কলকাতাকে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যান্য দলগুলোর জয়-পরাজয়ের সমীকরণের দিকে।
















































