শনিবার । মে ২৩, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ২৩ মে ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

ব্লুমবার্গ-এর প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের ২০ শতাংশ রিপার ড্রোন ধ্বংস করেছে ইরান


Reaper drone

এমকিউ-৯ রিপার অত্যাধুনিক ড্রোন হিসেবে পরিচিত। এটি নজরদারির পাশাপাশি হামলা চালাতেও সক্ষম

ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১০০ কোটি ডলারের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ধ্বংস হওয়া ড্রোনের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ-পূর্ব মোট রিপার বহরের প্রায় ২০ শতাংশ।

ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, যুদ্ধ চলাকালে ইরান আকাশে থাকা অনেক ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আরও কিছু ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

এমকিউ-৯ রিপার অত্যাধুনিক ড্রোন হিসেবে পরিচিত। এটি নজরদারির পাশাপাশি হামলা চালাতেও সক্ষম। সাধারণত এতে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেড বোমা বহন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ৩০টির মতো রিপার ড্রোন হারাতে পারে। যদিও চলতি মাসে প্রকাশিত মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে এই সংখ্যা ২৪ বলা হয়েছিল।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ব্যয় আরও বেড়েছে। পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আগে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের হাতে রিপার ড্রোন ভূপাতিত হওয়া দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি বড় প্রমাণ। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এদিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সামরিক বাহিনী হয়তো মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানের উড্ডয়ন পথ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যুদ্ধবিরতির কয়েকদিন আগে ইরান একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পাইলটদের উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন বিমানের গতিপথ শনাক্ত করতে সহায়তা করে থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনা চলাচল সম্পর্কিত স্যাটেলাইট তথ্যও দিয়েছে।

বর্তমানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দেশীয় প্রযুক্তির পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সরঞ্জামও রয়েছে। এর আগে মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের যুদ্ধের পর চীন ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে