
এক সংবাদ সম্মেলনে শিনসেগে গ্রুপের চেয়ারম্যান চুং ইয়ং-জিন জনসমক্ষে ক্ষমা চান
দক্ষিণ কোরিয়ায় স্টারবাকসের বিক্রিতে বড় ধরনের পতন দেখা হয়েছে। একটি বিতর্কিত মার্কেটিং ক্যাম্পেইনকে ঘিরে তীব্র জনরোষ তৈরি হওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানির স্থানীয় অপারেটর।
স্টারবাকস কোরিয়ার মূল অপারেটর শিনসেগে গ্রুপ জানায়, ‘ট্যাঙ্ক ডে’ নামে একটি প্রচারণা চালানোর পর থেকেই বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই ক্যাম্পেইনটি এমন এক সময়ে চালু করা হয়, যখন ১৯৮০ সালের ১৮ মে গওয়াংজু গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের স্মরণ দিবস পালিত হচ্ছিল।
সেই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সরকার আন্দোলন দমনে সেনা ও ট্যাঙ্ক মোতায়েন করেছিল, যা দেশটির ইতিহাসে এক দমন-পীড়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
স্টারবাকসের ট্যাঙ্ক ডে প্রচারণাকে ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং অনেকে এটিকে সংবেদনশীল ইতিহাসের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখেন।
এদিকে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে শিনসেগে গ্রুপের চেয়ারম্যান চুং ইয়ং-জিন জনসমক্ষে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, স্টারবাকস কোরিয়ার এই প্রচারণায় অনেক মানুষ কষ্ট পেয়েছেন—এটি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায়ভার নিচ্ছি।’ একই সঙ্গে তিনি অনুরোধ করেন, সাধারণ স্টারবাকস কর্মীদের যেন কোনো ধরনের ক্ষোভের শিকার হতে না হয়। তার মতে, এর দায় মূলত ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের।
এর আগে ১৯ মে তিনি প্রথমবারের মতো ক্ষমা চেয়ে বলেন, এই ক্যাম্পেইন গওয়াংজু আন্দোলনের ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
ঘটনার পরপরই শিনসেগে গ্রুপ স্টারবাকস কোরিয়ার প্রধানকে বরখাস্ত করে। একই সঙ্গে স্টারবাকস গ্লোবালও ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি তদন্তের ঘোষণা দেয়।
কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, বিতর্কের পর থেকে বিক্রি ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ কমে গেছে, যদিও এখন তাদের প্রধান চিন্তা বিক্রি নয়, বরং পরিস্থিতি সামলানো।
কোম্পানির আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তদন্তে এখনো নিশ্চিতভাবে প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ইচ্ছাকৃতভাবে আন্দোলনকে উপহাস করাই উদ্দেশ্য ছিল। তবে কিছু কর্মী অভ্যন্তরীণ তদন্তের সময় তাদের ফোন জমা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বয়কটের ডাক উঠেছে। সরকারের কিছু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারাও সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইউন হো-জুং জানিয়েছেন, সরকারি অনুষ্ঠানে স্টারবাকসের পণ্য আর ব্যবহার করা হবে না।
দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এক্স (সাবেক টুইটার)-এ বলেন, এই ধরনের প্রচারণা ‘অমানবিক এবং লজ্জাজনক’, যা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি অবমাননা।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৮০ সালে গওয়াংজু শহরে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমনে সামরিক সরকার কঠোর অভিযান চালায়। সেই অভিযানে শত শত মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন বলে ধারণা করা হয়। তবে এখনো পুরো ঘটনার অনেক দিক স্পষ্ট নয়, বিশেষ করে গুলির নির্দেশ কে দিয়েছিল তা নিয়ে বিতর্ক রয়ে গেছে।
এই সংবেদনশীল ইতিহাসকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কই এখন স্টারবাকস কোরিয়ার জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজুয়াল










































