
ফাইল ছবি
হজের যাবতীয় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজারো মুসল্লি সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা ত্যাগ করতে শুরু করেছেন। এ বছর বিশ্বের ১৬৫টি দেশের ১৭ লাখেরও বেশি মুসলমান পবিত্র হজ পালনে অংশ নেন, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ হিসেবে বিবেচিত।
হজের শেষভাগের নিয়ম অনুযায়ী, মক্কার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উপত্যকায় হাজিরা ‘রমি জামারাত’ অর্থাৎ প্রতীকী শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপের তৃতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এরপর তাঁরা মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে (মসজিদুল হারাম) ফিরে হজের সর্বশেষ রোকন বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফুল বিদা) সম্পন্ন করেন।
এই তাওয়াফে হাজিরা কাবা শরিফকে সাতবার প্রদক্ষিণ করেন, যা হজের শেষ আনুষ্ঠানিকতার অংশ। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো হজ, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার পালন করা ফরজ। কয়েক দিনের এই ইবাদত মূলত বিভিন্ন শারীরিক ও আধ্যাত্মিক আনুষ্ঠানিকতার সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়।
কঠোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে হজ সম্পন্ন করতে পেরে অনেক মুসল্লির মধ্যে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন অনুভূতি দেখা গেছে। প্রচণ্ড তাপদাহের ক্লান্তি ভুলে আল্লাহর ঘরে আসার সুযোগ পাওয়ায় সবার চোখে-মুখে ছিল পরম তৃপ্তির হাসি।
মিশরের ৩৭ বছর বয়সী হাজি আহমেদ মামদুহ বলেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে আমি হজ সম্পন্ন করেছি। খুব আনন্দিত যে নিরাপদে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পেরেছি। প্রচণ্ড গরমে হজ সত্যিই খুব কষ্টকর।’
অন্যদিকে, আলজেরিয়ার ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ হাজি তাঁর ৫০ বছরের দাম্পত্য জীবনের স্মৃতি হাতড়ে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ৫০ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর একসঙ্গে হজ করার স্বপ্ন দেখেছিলাম, আল্লাহ আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন।’
বিদায়ী তাওয়াফ শেষে হাজিরা এখন মক্কা ছেড়ে নিজ নিজ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকেই আবার মক্কার পাট চুকিয়ে প্রিয় নবীজির রওজা মোবারক জিয়ারতের উদ্দেশ্যে পবিত্র মদিনা নগরীর দিকে রওনা হচ্ছেন।











































