রবিবার । মে ২৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক ধর্ম ২৩ মে ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

কোরবানির পশু নির্বাচনে হতে হবে সতর্ক


Cow

কোরবানির পশু নির্বাচনে বিশেষ সতর্কতা

কোরবানির মহান ইবাদত শুধু পশু জবাই করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরীয়তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান। আল্লাহ তাআলার দরবারে উত্তম ও ত্রুটিমুক্ত কোরবানি পেশ করাই একজন মুমিনের প্রধান লক্ষ্য। সামান্য অসতর্কতা বা অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটি ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যেতে পারে। তাই কোরবানির পশুর শারীরিক অবস্থা এবং কোন ধরনের পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত বা অনুপযুক্ত, সে বিষয়ে ইসলামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা জানা প্রতিটি মুসলমানের জন্য জরুরি।

পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা ও সতর্কতাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • রুগ্ন ও দুর্বল পশু: কোরবানির পশু সুস্থ ও সবল হওয়া আবশ্যক। এমন শুকনো বা দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে না, তা দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ নয়।

  • দাঁতের অবস্থা: যে পশুর একটি দাঁতও নেই কিংবা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না, তা কোরবানির অনুপযুক্ত।

  • শিং ভাঙা বা ফাটা: যদি কোনো পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙে যায় এবং এর ফলে তার মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা দিয়ে কোরবানি করা যাবে না। তবে যদি শিং অর্ধেক বা কিছু অংশ ভেঙে যায় কিংবা জন্মগতভাবেই শিং না থাকে, তবে সেই পশু কোরবানি করা যাবে।

  • কান বা লেজ কাটা: যে পশুর লেজ বা কান অর্ধেক অথবা তার চেয়ে বেশি কাটা থাকে, তা দিয়ে কোরবানি আদায় হবে না। তবে জন্মগতভাবে কান ছোট হলে কোনো অসুবিধা নেই।

  • অন্ধ বা চোখের সমস্যা: যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক চোখ পুরোপুরি নষ্ট, তা দিয়ে কোরবানি করা শরীয়তে নিষিদ্ধ।

  • খোঁড়া পশু: যে পশু তিন পায়ে চলে এবং এক পা মাটিতে রাখতে বা ভর দিতে পারে না অর্থাৎ পুরোপুরি খোঁড়া, সেই পশুর কোরবানি জায়েজ হবে না।

  • গর্ভবতী ও বন্ধ্যা পশু: গর্ভবতী পশু কোরবানি করা জায়েজ হলেও প্রসবের সময় একদম কাছাকাছি হলে তা মাকরুহ। তবে জবাইয়ের পর যদি বাচ্চা জীবিত পাওয়া যায়, তবে সেটিকেও জবাই করতে হবে এবং তার গোশত খাওয়া যাবে। এছাড়া বন্ধ্যা পশুর কোরবানি করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

কোরবানি মূলত বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা ছাড়িয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহান মাধ্যম। প্রতিটি ইবাদতের মতো এখানেও শরীয়তের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। নিখুঁত, সুস্থ ও উপযুক্ত পশু নির্বাচনের মাধ্যমে একজন মুসলিম তার কোরবানিকে আরও পরিপূর্ণ ও আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারেন।

তাই পশুর হাট থেকে কেনার সময় এই মাসআলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।