শনিবার । মে ৩০, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ৩০ মে ২০২৬, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

পরিবারহীন দূর পরবাসে প্রবাসীদের ঈদ: দেশের স্মৃতি হাতড়েই কাটে দিন


probasi-eid

হাজারো মাইল দূরে থাকা প্রবাসীদের ঈদ কাটে এক বুক কষ্ট, একাকীত্ব আর দেশের সোনালী স্মৃতি হাতড়ে।

‘ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ’—এই চিরন্তন সত্যটি বিশ্বের সব প্রান্তে থাকা প্রবাসীদের জন্য প্রযোজ্য হলেও, এর ভেতরের বাস্তবতায় আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। দেশের মাটিতে পরিবারের সবার সাথে ঈদ করার যে অনাবিল আনন্দ, প্রবাসীদের জীবনে তার বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। হাজারো মাইল দূরে থাকা এই মানুষগুলোর ঈদ কাটে এক বুক কষ্ট, একাকীত্ব আর দেশের সোনালী স্মৃতি হাতড়ে।

অনেক প্রবাসীই বছরের পর বছর ধরে ঈদের আগে চাতক পাখির মতো ছুটির আশায় থাকেন, যেন অন্তত ঈদের দিনটি দেশের মাটিতে মা-বাবা, সন্তান কিংবা জীবনসঙ্গীর সাথে উদযাপন করতে পারেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে অনেকেরই সেই স্বপ্ন ভেস্তে যায়। কর্মস্থলের অতিরিক্ত কাজের চাপ কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি না পাওয়ার মতো নানা কারণে শেষ পর্যন্ত আর দেশে ফেরা সম্ভব হয় না। ফলে একরাশ মন খারাপ আর বুকের ভেতর কষ্ট চেপে রেখেই তাঁদের বিদেশের মাটিতে ঈদের দিনটি পার করতে হয়।

দেশের ঈদ মানেই এক অন্যরকম আবেগ, ভালোবাসা আর উৎসবের আমেজ। কর্মজীবী মানুষ শত কষ্ট সয়েও নাড়ির টানে ছুটে যায় নিজের গ্রামে, প্রিয়জনদের কাছে। ফজরের আজানের পর দল বেঁধে গোসল করা, নতুন জামা-কাপড় পরে সুগন্ধি মেখে ঈদগাহ মাঠে যাওয়ার যে চিরাচরিত দৃশ্য—তা প্রবাসীদের জন্য কেবলই দূর অতীতের মধুর স্মৃতি। পরিবার-পরিজন থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা প্রবাসীদের ঈদের সকালটা শুরু হয় এক ভিন্ন রকম বিষাদ নিয়ে।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কামরুল হাসান নিজের আবেগ আপ্লুত অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “ঈদের দিনটি এখানে যেন কাটতেই চায় না। সারাক্ষণ দেশের কথা, পরিবারের কথা মনে পড়ে। বাবা-মা সাথে নেই, তাঁদের সাথে ঈদ করতে পারছি না—এই কষ্টটা আসলেই অনেক বেশি লাগে।”

বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আসা আরেক শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদিন রাজিব জানান তাঁর যান্ত্রিক ঈদের গল্প। তিনি বলেন, “সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেই এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সোজা চলে গেছি নিজের কাজে। এভাবেই কেটে যাচ্ছে আমাদের ঈদের দিন, এভাবেই চলছে আমাদের ঈদ আনন্দ!”

প্রবাসীদের এই মানসিক অবস্থা দেশের মানুষ সহজে অনুধাবন করতে পারে না উল্লেখ করে প্রবাসী ইকবাল হোসেন বলেন, “দেশের ঈদ আনন্দ প্রবাসীরা ঠিক কতটা মিস করে, তা দেশের মানুষ কোনোদিন অনুভব করতে পারবে না, কিংবা হয়তো তাঁরা বুঝতেও চায় না!”

শত প্রতিকূলতা আর একাকীত্বের মাঝেও প্রবাসীরা নিজেদের মতো করে ঈদের আনন্দটুকু খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একই এলাকায় থাকা পরিচিতজন ও বন্ধুদের সাথে একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করা, নিজেদের উদ্যোগে পছন্দের বাঙালি খাবারের আয়োজন, আড্ডা এবং একটু ঘোরাঘুরির মাধ্যমেই তাঁরা চেষ্টা করেন ঈদের খুশিটুকু ভাগাভাগি করে নিতে। প্রবাসের এই যান্ত্রিক জীবনে একে অপরের সাথে মিলিত হওয়াই যেন হয়ে ওঠে তাঁদের ঈদের একমাত্র সান্ত্বনা।