
লিওনেল মেসি
ফুটবল মাঠের সবুজ ঘাসে তাঁর পায়ের জাদু দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বুঁদ করে রেখেছে পুরো বিশ্বকে। তবে এবার মাঠের সেই অনন্য কীর্তির পাশাপাশি মাঠের বাইরের মানবিক রূপের জন্যও এক বিরল ও অনন্য সম্মানে ভূষিত হলেন লিওনেল মেসি। ইতিহাসে প্রথম একক ফুটবলার হিসেবে স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অস্তুরিয়াস পুরস্কার ২০২৬’ (Princess of Asturias Award for Sports 2026) জয় করেছেন আর্জেন্টাইন এই মহানায়ক।
অস্তুরিয়াস পুরস্কার ফাউন্ডেশনের জুরি বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া বিভাগে এই বছরের বিজয়ী হিসেবে লিওনেল মেসির নাম ঘোষণা করে। প্যারালিম্পিক সাঁতারু তেরেসা পেরেলসের নেতৃত্বাধীন জুরি বোর্ড ভোটের মাধ্যমে মেসিকে এই বিশ্বমানের সম্মানের জন্য মনোনীত করে।
স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত এলাকা অস্তুরিয়াসের রানির পক্ষ থেকে প্রতি বছর শিল্পকলা, সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়। ক্রীড়া জগতে এই পুরস্কারের মর্যাদা আকাশচুম্বী। তবে ফুটবল ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, এর আগে কোনো ফুটবলার এককভাবে এই ট্রফি নিজের শোকেসে তুলতে পারেননি।
অতীতে ফুটবল দুনিয়ায় এই পুরস্কারটি যৌথ বা দলগতভাবে এসেছে। ২০০২ সালে বিশ্বজয়ী ব্রাজিল জাতীয় দল এবং ২০১০ সালে বিশ্বকাপজয়ী স্পেন জাতীয় দল এই পুরস্কার পেয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১২ সালে স্পেনের দুই কিংবদন্তি ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ যৌথভাবে এই পুরস্কার হাতে পান। ফলে প্রথম একক ফুটবলার হিসেবে এই মুকুট পরে অনন্য এক কীর্তি গড়লেন এলএমটেন (LM10)। আগামী অক্টোবরে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেসির হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
পুরস্কার প্রদানের ঘোষণায় জুরি বোর্ডের বিবৃতিতে মেসির ফুটবলীয় দক্ষতা এবং মাঠের বাইরের মানবিক সত্তাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। জুরিদের মতে, “লিওনেল মেসির অসাধারণ প্রতিভা ও অনন্য ক্রীড়াজীবনের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি ও উল্লেখযোগ্য মানবিক কর্মকাণ্ড প্রশংসনীয়।
ফুটবল ইতিহাসের সর্বাধিক শিরোপাজয়ী এই খেলোয়াড় মাঠে তাঁর আদর্শ আচরণ, ধারাবাহিকতা, বিনয় এবং দলীয় খেলার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধতার জন্য বিশ্বজুড়ে সবার শ্রদ্ধা ও প্রশংসা অর্জন করেছেন।”
জাতীয় দল থেকে শুরু করে ক্লাব ফুটবল—মেসির ট্রফি ক্যাবিনেটে না থাকা মুকুটের সংখ্যা শূন্যের কোঠায়। আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে তিনি ২০২২ সালে উঁচিয়ে ধরেছেন পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফি। এছাড়া ২০২১ ও ২০২৪ সালে টানা দুটি কোপা আমেরিকা এবং ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে জিতেছেন স্বর্ণপদক।
ক্লাব ফুটবলেও তাঁর সাফল্য এক রূপকথা। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে ১০টি লা লিগা এবং ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন তিনি। ইউরোপ অধ্যায় চুকিয়ে বর্তমানে খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামি সিএফ-এ, যেখানে ইতিমধ্যেই তাঁর ঝুলিতে এসেছে ২০২৫ এমএলএস কাপ, ২০২৪ সাপোর্টার্স শিল্ড এবং ২০২৩ সালের লিগস কাপ।

বিশ্বকাপ ক্যাম্পের প্রস্তুতি উপলক্ষে বর্তমানে আর্জেন্টিনা দলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অবস্থান করছেন মেসি। সেখান থেকেই এক ভিডিও বার্তায় নিজের ভালোলাগা প্রকাশ করে এই ফুটবল জাদুকর বলেন, “হ্যালো, আমরা ইতিমধ্যেই জাতীয় দলের সাথে কানসাস সিটিতে আছি এবং আমাদের পুরো মনোযোগ এখন খেলাতেই।
কিন্তু আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই এই দারুণ খবরটি জানতে পারি এবং আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে অসংখ্য বার্তা আসতে থাকে। সত্যি বলতে, এই স্বীকৃতি পেয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এর গুরুত্ব আমার কাছে অনেক বেশি, কারণ শুধু মাঠে আমি যা করি তার জন্যই নয়, মাঠের বাইরের কাজের জন্যও আমাকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে।
ভিজুয়াল স্টোরি
















































