
আপনার প্রিয় বিড়ালকে আলিঙ্গনের দিন আজ
বিড়াল অত্যন্ত স্বাধীন, আরামপ্রিয় এবং আদুরে প্রকৃতির এক মায়াবী প্রাণী। এদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এরা নিজেদের শরীর নিজেরাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। কুকুরের মতো এদের নিয়মিত বাইরে হাঁটাতে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা নেই অথচ ঘরের কোণে আপনার একটুখানি মনোযোগের অপেক্ষায় এরা গুটিসুটি মেরে বসে থাকে। মানুষের সাথে সময় কাটাতে ও খেলতে এরা ভীষণ ভালোবাসে আর এই খুনসুটির মধ্য দিয়েই এরা হয়ে ওঠে আমাদের পরিবারের একেকজন অবিচ্ছেদ্য সদস্য, আমাদের পরম প্রিয় ‘পুষি’। আজ ৪ জুন, ক্যালেন্ডারের পাতায় সেই আদুরে, লোমশ বন্ধুদের শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরার দিন—‘হাগ ইওর ক্যাট ডে’ বা বিড়ালকে আলিঙ্গন করার দিন।
প্রতি বছর ৪ জুন বিশ্বজুড়ে বিড়ালপ্রেমীরা দিনটি পালন করেন। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, কেন ৪ জুনকেই বেছে নেওয়া হলো আর এই দিনের শুরুটাই বা কীভাবে?
আসলে এই বিশেষ দিনটির আনুষ্ঠানিক সূচনার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ব্যক্তির নাম কিংবা বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। তবে বিড়ালপ্রেমীদের আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরাম ও ইন্টারনেট সংস্কৃতির হাত ধরে একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই দিবসের ধারণাটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে। মে মাসের শেষের দিকে বসন্তের আমেজ পেরিয়ে জুনের শুরুতে যখন প্রকৃতিতে একটা শান্ত স্নিগ্ধতা আসে, ঠিক তখনই পোষা প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অংশ হিসেবে জুন মাসের এই চার তারিখটিকে বেছে নেওয়া হয়।

বিড়াল সাধারণত একটু দূরত্ব বজায় রাখতে পছন্দ করলেও, বছরের অন্তত একটি দিন যেন মালিকেরা সব কাজ ফেলে তাদের প্রিয় বন্ধুটিকে নিবিড়ভাবে আলিঙ্গন করেন এবং তাদের প্রতি যত্নশীল হন—এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল দিনটি চালুর মূল উদ্দেশ্য।
বিড়ালকে কেবল ভালোবেসেই বুকে জড়াবেন তা কিন্তু নয়, আপনার এই ছোট্ট আলিঙ্গনে লুকিয়ে আছে দারুণ সব স্বাস্থ্যগত সুফল।
হতাশা ও একাকীত্ব দূর: নরম তুলতুলে একটা বিড়ালছানাকে কোলে নিয়ে জড়িয়ে ধরলে মুহূর্তের মধ্যেই মনের ভেতর জমে থাকা ক্লান্তি, হতাশা এবং একাকীত্বের অনুভূতি কর্পূরের মতো উড়ে যায়।
হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: বিড়ালকে আলিঙ্গন করলে মানবদেহে স্ট্রেস হরমোন কমে আসে, যা আপনাকে শান্ত ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে সহায়তা করে। এর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে আমাদের হৃদযন্ত্রের ওপর, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
হাড় ও পেশি নিরাময়: বিড়াল যখন ওমে বসে পরম সুখে চোখ বুজে ‘প্যুররর… প্যুররর…’ (Purring) শব্দ করে, এই আওয়াজটির মধ্যে একটি অদ্ভুত নিরাময় ক্ষমতা রয়েছে। বিজ্ঞান বলে, বিড়ালের এই গুঞ্জন বা ভাইব্রেশন মানুষের হাড় এবং পেশি দ্রুত নিরাময়ে দারুণ সাহায্য করে।
গভীর ও চমৎকার ঘুম: যারা রাতে নিজের প্রিয় বিড়ালটিকে পাশে নিয়ে ঘুমান, তাদের অনিদ্রার সমস্যা দূর হয় এবং ঘুম বেশ ভালো ও গভীর হয়।
সব বিড়ালের স্বভাব কিন্তু এক নয়। তবে কিছু কিছু প্রজাতির বিড়াল অন্য জাতের চেয়ে অনেক বেশি স্নেহশীল এবং আলিঙ্গন পছন্দ করে:

র্যাগডল: এরা সাধারণ বিড়ালের চেয়ে একদম আলাদা স্বভাবের। এতটাই আদরপ্রিয় যে আপনি যখনই একে কোলে তুলে নেবেন, এরা একদম নিস্তেজ হয়ে নিজের সারা গা আপনার বাহুতে এলিয়ে দেবে।
মেইন কুন: আকারে বেশ বড় জাতের এই বিড়ালগুলো ভীষণ বন্ধুভাবাপন্ন। আপনি বাইরে থেকে বাড়ি ফিরলে এরা দরজায় এসে আপনাকে শুধু স্বাগতই জানাবে না বরং এক ঘর থেকে আরেক ঘরে আপনার পেছন পেছন ঘুরবে। এরা অতিথিদেরও খুব পছন্দ করে এবং সর্বদা আলিঙ্গনের জন্য প্রস্তুত থাকে।
হিমালয়ান: লম্বা ও রেশমি চুলের এই বিড়ালগুলো শান্ত প্রকৃতির এবং এদের চেহারায় এক রাজকীয় ভাব থাকে। এরা সর্বদা তাদের মালিকদের আদরে মগ্ন রাখতে ভালোবাসে।
সিয়ামিজ: নীল চোখের এই সুন্দরীরা যেন এক একটা শক্তির পারমাণবিক বোমা! প্রচণ্ড চঞ্চল প্রকৃতির হলেও এরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খুব দ্রুত এবং দৃঢ় ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করতে পারে।
আবিসিনিয়ান: বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও বুদ্ধিমান জাত এটি। এরা এতটাই চতুর যে কুকুরের মতো বিভিন্ন আদেশ বা ইশারা খুব দ্রুত শিখে নিতে পারে। মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে ও তাদের ভালোবাসা পেতে এরা ব্যাকুল থাকে।
ক্যালিকো: বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট জাত না হলেও, গায়ের রঙের জাদুকরী বৈশিষ্ট্যের কারণে বিড়ালপ্রেমীদের কাছে ‘ক্যালিকো’ এক পরম বিস্ময়। মূলত সাদা পশমের ওপর কমলা (বা লালচে) এবং কালো রঙের ছোপ ছোপ ছিটমহল নিয়ে যে বিড়ালগুলো জন্মায়, তাদেরই ক্যালিকো বলা হয়। তিন রঙের এই অপূর্ব মিশ্রণ এদেরকে দেখতে দারুণ আকর্ষণীয় ও অনন্য করে তোলে। মজার বিষয় হলো, জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বের প্রায় ৯৯.৯ শতাংশ ক্যালিকো বিড়ালই মেয়ে বিড়াল হয়ে থাকে। এরা স্বভাবগতভাবে অত্যন্ত চটপটে, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং স্বাধীনচেতা হলেও, মালিকের প্রতি এদের আনুগত্য ও ভালোবাসা থাকে অগাধ।
তাই আর দেরি কেন? আজ অন্য সব কাজ একটু পাশে সরিয়ে রেখে আপনার ঘরে থাকা সেই চার পেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুটিকে বুকে টেনে নিন। আর যাদের ঘরে কোনো পোষা বিড়াল নেই, তারা চাইলে আজই রাস্তা থেকে কোনো আশ্রয়হীন বিড়ালছানাকে দত্তক নিয়ে আপনার জীবনকে করে তুলতে পারেন আরও আনন্দময় ও মায়াবী!
ভিজুয়াল স্টোরি
















































