রবিবার । জুন ২১, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৯ জুন ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার

ট্রাম্পের ‘অপমানজনক’ মন্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর


Trump Meloni

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ইতালির জনগণের প্রতি ‘অপমান’ আখ্যা দিয়ে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি।

আগামী ২১ ও ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা থাকলেও শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সফর বাতিলের ঘোষণা দেন তাজানি। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য শুধু প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকেই নয়, বরং পুরো ইতালিকেই অসম্মান করেছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ইতালীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘লা সেতে’-কে দেওয়া ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারকে ঘিরে। সেখানে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তুলতে ‘খুবই আগ্রহী’ ছিলেন এবং তিনি ‘করুণা করেই’ সেই অনুরোধে সাড়া দেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “সে আমার সঙ্গে ছবি তুলতে খুবই আগ্রহী ছিল। আমি তার জন্য খারাপ বোধ করেছিলাম বলেই রাজি হয়েছিলাম।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, “হয়তো সে খুশি যে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। আমার তার সঙ্গে কথা বলার কোনো প্রয়োজন ছিল না।”

ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন জর্জিয়া মেলোনি। এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আমি কিংবা ইতালি কখনো কারও কাছে ভিক্ষা চায় না।” একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘনিষ্ঠ মিত্রদের প্রতি এমন ভাষা ব্যবহার করছেন।

কট্টর ডানপন্থী এই ইতালীয় নেতা আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রায়ই পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিপক্ষ দেশ ও নেতাদের প্রতি তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নেন, অথচ মিত্রদের প্রতি কঠোর আচরণ করেন।

উল্লেখ্য, জি-৭ সম্মেলন শেষে মেলোনি বলেছিলেন, বৈঠকের পরিবেশ ছিল ইতিবাচক এবং ট্রাম্পসহ অংশগ্রহণকারী নেতাদের মধ্যে কোনো বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা যায়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্যের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়াশিংটন ও রোমের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়তে থাকে।

বিশেষ করে এপ্রিল মাসে পোপ লিও চতুর্দশের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে মেলোনি প্রকাশ্যে পোপের পক্ষ নেওয়ার পর দুই নেতার সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে ওঠে। তখন মেলোনির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পও তার সমালোচনা করে বলেন, তিনি ভেবেছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রীর আরও সাহসী অবস্থান থাকবে।

এছাড়া ন্যাটোতে ইতালির ভূমিকা এবং ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে পর্যাপ্ত সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ট্রাম্প। এমনকি ইতালি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই বাকযুদ্ধ শুধু ট্রাম্প ও মেলোনির ব্যক্তিগত সম্পর্কেই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন অস্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।