
যুক্তরাষ্ট্রের কড়া রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আর কঠোর নিয়মের বেড়াজালে বন্দি থেকেও মাঠ ও মাঠের বাইরে নিজেদের সাহসিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করল ইরান ফুটবল দল। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে ইউরোপীয় জায়ান্ট বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ড্রয়ের পর, ড্রেসিংরুমে এক রহস্যময় ও আবেগঘন চিঠি রেখে তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হয়েছে পারসিয়ানদের।
বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ওয়াশিংটনের বেঁধে দেওয়া কঠোর নিয়মের কারণে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই মার্কিন মুলুক ছেড়ে মেক্সিকোর বেসক্যাম্পে ফিরে যেতে হয় ইরানি দলকে। এমনকি ম্যাচের আগের দিন ছাড়া তাদের ভেন্যু শহরে প্রবেশেরও অনুমতি নেই। এমন বৈরি পরিস্থিতির মাঝেই গতকাল রোববার দিবাগত রাতে ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল ইরান। মাঠে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে বেলজিয়ামের সব আক্রমণ নসাৎ করে দেন।
ম্যাচটি ০-০ গোলে ড্র হওয়ায় টানা দুই ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে ইরান। এই ড্রয়ের পর সাময়িকভাবে তারা টেবিলের শীর্ষে উঠলেও, সকালে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে মিসর এখন গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করেছে।
তবে আসল চমকটি অপেক্ষা করছিল সোফি স্টেডিয়ামের লকার রুমে। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছাড়ার আগে ইরানি দল একটি হাতে লেখা চিঠি রেখে যায়, যার ছবি পরবর্তীতে প্রকাশ করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। চিঠিতে তারা লিখেছে, ‘হাজারও বছর আগের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের চেতনা জীবন্ত ও অটুট রয়েছে। ধন্যবাদ লস অ্যাঞ্জেলেস, আপনাদের আতিথেয়তার জন্য। আমরা লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছিলাম গর্ব নিয়ে, সম্মানের সঙ্গে লড়েছি এবং এখন মর্যাদা নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছি।’
একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও বন্ধুত্বের বার্তা দিয়ে তারা আরও লেখে, ‘প্রত্যেক ইরানিয়ানকে ধন্যবাদ, যারা ১৮০ মিনিট ধরে প্রাণ দিয়ে আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। প্রত্যেক দেশের মাঝে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।’ চিঠির এক কোণে লাল কালিতে লেখা ছিল ‘৭৬৮’ এবং ‘মিনাব’—যা এই পুরো ঘটনায় এক তীব্র রাজনৈতিক প্রতিবাদের আলোড়ন তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই মিনাব নামক একটি স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় প্রায় ১৭০ জন নিষ্পাপ শিশু প্রাণ হারিয়েছিল। মূলত বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক বৈরিতা তুঙ্গে ছিল।
ইরান প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে তীব্র আপত্তিও জানিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিজুয়ানায় (মেক্সিকো) বেসক্যাম্প করে তারা টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও, লকার রুমের এই চিঠি এবং লাল কালির লেখা দিয়ে তারা মার্কিন মাটিতেই তাদের ওপর হওয়া অন্যায়ের এক নীরব ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়ে গেল।
ভিজুয়াল স্টোরি












































