
উৎসবে বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান, উইজংবু সিটির মেয়র আন বিয়ং ইয়োং এবং ইয়াংজু সিটির মেয়র লি সং হো
নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ উৎসব পালন করেছে কোরিয়া প্রবাসীরা। দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় এই মিলনমেলা বাংলাদেশ উৎসব আজ উইজংবু’র সিনহান ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন কোরিয়া (বিসিকে) আয়োজিত এই উৎসবের আয়োজন করে।
আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিউলস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমান বলেন আমরা আত্মপরিচয়, প্রকৃত ইতিহাসের যেটা একটা চরম পর্যায়ে চলে গিয়েছিল সেখান থেকে আমরা ঘুরে দাড়াচ্ছি। নিজেকে জানার, নিজের দেশকে জানার এবং নিজের ইতিহাসকে জানার সুযোগ করে দেয় বাংলাদেশ উৎসবের মত অনুষ্ঠানগুলো। তিনি বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন কোরিয়ার উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রসংশা করেন এবং দূতাবাসকে বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতায় করায় ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশী অধ্যুষিত শহর উইজংবু সিটির মেয়র আন বিয়ং ইয়োং বাংলাদেশী প্রবাসীদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন বিদেশের মাটিতে এই ধরণের উৎসব সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ অতিথি ইয়াংজু সিটির মেয়র লি সং হো বাংলাদেশ থেকে কোরিয়াতে এসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে কাজ করার জন্য বাংলাদেশীদেরকে ধন্যবাদ জানান।

বিসিকে নির্বাহী পরিষদ সদস্য ছোয়ে আরিফের উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উৎসব উৎযাপন কমিটির প্রধান এম জামান সজল। সমাপনী বক্তব্যে বিসিকে সভাপতি দূতাবাসদসহ, দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যান্য সকল কমিউনিটি সংগঠনগুলোকে বিসিকের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষন ছিলো বাংলাদেশের অন্যতম সেরা গায়ক শাফিন আহমেদ এবং এ সময়ের মঞ্চমাতানো গায়িকা মুন। জনপ্রিয় এই দুই শিল্পীর গানগুলো কোরিয়া প্রবাসীরা আনন্দের সাথে উপভোগ করেন। চাঁদ তারা সূর্য, সে কোন দরদীয়া, আর কতকাল খুঁজব তোমায়, পাহাড়ী মেয়ে, প্রথম প্রেমের মতোসহ শাফিন আহমেদের জনপ্রিয় গানগুলোতে মেতে উঠেন হাজার হাজার কোরিয়া প্রবাসীরা।

বাংলাদেশ উৎসবে দর্শকদের একাংশ
উৎসবের প্রথম পর্বে বিশেষ আয়োজন ছিল কোরিয়া প্রবাসী শিল্পীদের জন্য বিশেষ আয়োজন। কোরিয়ার পরিচিত এবং জনপ্রিয় শিল্পীরা এই পর্বে মঞ্চ মাতান। এই পর্বে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন ইন কোরিয়ার পক্ষ থেকে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল এবারের উৎসবের ব্যতক্রমী আয়োজন। গান, কৌতুক, ফ্যাশন শো, নাচের সমন্বয়ে নতুন একটি মাত্রা দেয় এই উৎসবে। এছাড়া দূতাবাসের একটি টিম এবং অন্যান্য প্রবাসী শিল্পীরা জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন।

বাংলাদেশ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো ক্রিকেট ম্যাচ
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো বিভিন্ন ধরণের বাংলা খাবারের স্টল। প্রবাস জীবনের একাকীত্ব এবং কাজের চাপে বন্ধু বান্ধবের সাথে দেখা করার সুযোগ হয়ে উঠেনা। আজ বাংলাদেশ উৎসবে যোগ দেন হাজার হাজার বাংলাদেশী।
এবারের উৎসবের দিন নতুন মাত্রা ছিল ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট। উৎসবের দিন সকালে সিনহান ইউনিভার্সিটির মাঠে বিসিকে ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট ২০১৭ এর উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ উৎসব উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ কমিউনিটির ইন কোরিয়া’র গঠিত আয়োজক কমিটির সাথে সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ এবং কোরিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। উৎসবে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে থাকছে কোরিয়া একচেঞ্জ ব্যাংক। সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে উইজংবু সিটি কর্তৃপক্ষ এবং ইয়াংজু সিটি কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া কোরিয়ার বাংলাদেশী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো হাত বাড়িয়ে দিয়েছে উৎসবকে সফল করতে। পৃষ্টপোষক হিসেবে ছিল কেইবি ব্যাংক, এস এন ফুড, এইল ক্লিনটেক, সুমাইয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, টিকন সিস্টেম, ফরেন ফুড মার্ট, এন এস আই, নদী কোরিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মিরে ট্রেডিং, ইএস শিপিং, এম এস ট্রাভেলস, ওয়ার্ল্ড ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস, ওয়ার্ল্ড মার্ট, হ্যাপিস্টার ট্রাভেলস, গ্যাঞ্জেস রেস্টুরেন্ট, প্রাইম ট্রাভেল এবং ফর ইউ মার্ট। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে বাংলাভিশন, একাত্তর টিভি এবং বাংলা টেলিগ্রাফ।








































