cosmetics-ad

দেড়শ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা আশরাফুল

ashraful

রানে ফেরার আভাসটা দিয়েছিলেন আগের রাউন্ডেই। চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছিলেন ৬০ রানের ইনিংস। ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন পরের ম্যাচেও। এবার ছাড়িয়ে গেলেন নিজেকেও, খেললেন অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংস, জিতলেন ম্যাচসেরার পুরষ্কার।

জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবু চ্যালেঞ্জটা নিয়েছেন নিজের সঙ্গেই। মৌসুম শুরুর আগে বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক পরামর্শ দিয়েছিলেন, খেলা ছেড়ে কোচিংয়ে মন দিতে। কিন্তু তিনি নিজে ভেবেছেন, এখনও ক্রিকেট মাঠে দেয়ার রয়েছে বেশ কিছু। তাই চালিয়ে যাচ্ছেন খেলা।

আর মাঠের খেলায় পঞ্চম ইনিংসেই হাঁকালেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। আগের দুই রাউন্ডের ম্যাচে তার ইনিংসগুলো ছিলো যথাক্রমে ৬, ২১ ও ৬০। এবার তৃতীয় রাউন্ডের এক ইনিংসেই ছাড়িয়ে গেছেন আগের তিন ইনিংসের সম্মিলিত সংগ্রহকে। তার ইনিংসে ভর করেই তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে না জিতেও ২.৬ পয়েন্ট পেয়েছে বরিশাল বিভাগ।

বলা হচ্ছিলো, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একসময়কার অন্যতম সেরা তারকা মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়ে। যিনি চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচে বরিশালের হয়ে ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে খেলেছেন ১৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে আশরাফুলের এই ইনিংসই হয়ে আছে পুরো ম্যাচের বিজ্ঞাপন।

বগুড়ার শহীদ চান্দু ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টির কারণে প্রথম তিনদিন এক বলও মাঠে গড়ায়নি। আজ ম্যাচের শেষদিন টস হেরে আগে ব্যাট করার সুযোগ পায় আশরাফুলের বরিশাল। আগের দুই রাউন্ডে টপঅর্ডারে খেললেও, এ ম্যাচে ওপেনিং নামতে দেয়া হয় আশরাফুলকে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঢাকা মেট্রোর হয়েই খেলার কথা ছিলো আশরাফুলের। কিন্তু তাকে দলে না নিয়েই নিজেদের স্কোয়াড ঘোষণা করে দেয় ঢাকা মেট্রো। শেষ মুহূর্তে আশরাফুলকে দলে ভেড়ায় বরিশাল। এবার সেই ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষেই অসাধারণ ইনিংসটি খেললেন আশরাফুল।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বরিশালের পক্ষে ২০৪ বলে ১৫০ রান করেন তিনি। প্রায় সোয়া পাঁচ ঘণ্টার অপরাজিত এই ইনিংসে ১৬টি বাউন্ডারি মারেন আশরাফুল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২১তম সেঞ্চুরি এটি তার। এছাড়া সোহাগ গাজী ৬৮ ও সালমান হোসেন ৫৫ রান করলেও ৫ উইকেট হারিয়ে ৩১২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বরিশাল।

নিশ্চিত ড্র ম্যাচে ঘণ্টাখানেকের জন্য ব্যাটিংয়ে নামে ঢাকা মেট্রো। দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও রাকিন আহমেদ নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেন ১২ ওভার, দলের স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে ৩৪ রান। সাদমান ও রাকিন অপরাজিত থাকেন সমান ১৭ রান করে। এমন ড্রয়ের ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার পুরষ্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

এ ড্রয়ের পর দ্বিতীয় স্তরের পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে নেমে গিয়েছে বরিশাল শীর্ষে উঠে গেছে চট্টগ্রাম। বরিশালের রয়েছে ১টি জয় ও ২টি ড্র, তাদের সংগ্রহ ১৪.৬২ পয়েন্ট। তিন ম্যাচে সমান ১টি জয় ও ২ ড্র রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগেরও। তবে তাদের সংগ্রহ ১৬.৪২ হওয়ায় অবস্থান করছে টেবিলের শীর্ষে। এমনকি তৃতীয় স্থানে থাকা সিলেটও ১টি ম্যাচ জিতেছে, ড্র করেছে অন্যটি। তাদের ঝুলিতে রয়েছে ১২.৬৯ পয়েন্ট।