cosmetics-ad

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাশে মালয়েশিয়া সরকার

malaysia

বাংলাদেশসহ বিদেশি শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। প্রতিনিয়ত তাদের খোজঁ নিচ্ছে। এমনটি বললেন দেশটির হাইয়ার এডুকেশন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দাতু নূরাইনি আহমাদ। ৭ এপ্রিল মালয়েশিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিএমসিসআই) পরিচালক মাহবুব আলম শাহ মন্ত্রীর সঙ্গে তার পুত্রাজায়া কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তখন আলোচনাকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সাক্ষাতে মাহবুব আলম শাহ হাতের গ্লাভস, মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। সংকটময় সময়ে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স এগিয়ে আশায় প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

আলোচনাকালে দেশটিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নূরাইনি আহমাদ বলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশের জনগণের কল্যাণে জনগণের নিরাপওার কথা বিবেচনা করে মালয়েশিয়াজুড়ে মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার চলছে। এমন পরিস্থিতিতে কলেজ ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হলেও ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে অনলাইনে। শুধু বাংলাদেশিই নয়, করোনা সংকট মোকাবিলায় দেশি-বিদেশি যেসব শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছেন, তাদের ৩ বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যারা হলের বাইরে থাকেন তারা তাদের কলেজ বা ইউনিভার্সিটির অনলাইন ফরম পূরণ করে ইউনিভার্সিটি বা কলেজের ক্যাফেটেরিয়ায় ৩ বেলা খেতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ইউনিভার্সিটির সহযোগিতা পেতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের অবশ্যই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, যেটা মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার জারির সাথে সাথেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

কিন্তু কেউ যদি মুভমেন্ট কন্ট্রোল চলাকালীন সময়ে নিজ দেশে যেতে চায় তাহলে শিক্ষার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

malaysia-newsখোজঁ নিয়ে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কলেজ ইউনিভার্সিটিতে প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে কারো কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, এ বিষয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বলছেন, কর্তৃপক্ষ কোয়ারেন্টাইনে থাকা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খোজঁ নিচ্ছেন। এর পরেও যারা সমস্যায় রয়েছেন তাদেরও বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

মালয়া ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেন্সি বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর ড. মো. মাহফুজুর রহমান জানান, যে শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করছেন, লোকাল কিংবা ইন্টারন্যাশনাল সবাইকে ৩ বেলা খাবার (সকাল, দুপুর, বিকেল) ইউনিভার্সিটি মালয়া কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করছে। যারা হলের বাইরে অবস্থান করছেন তাদের জন্য শুকনা খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে- চাল, নুডুলস, চা, কফি, টুনা, ড্রিঙ্কস, বিস্কিট ইত্যাদি। তবে খাবার পাননি এমন খবর পেলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মাহফুজুর রহমান জানান, একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত সমস্যায় দেশে যেতে চান। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কাইকমিশনের সাথে ওই শিক্ষার্থী যোগাযোগ করেছেন কীভাবে দেশে যাওয়া যাবে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে না এমন অভিযোগ আমরা পাইনি।

ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার প্রফেসর এস এম আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, যার যার সাধ্যমতো সেইফ অ্যান্ড সিকিউর্ডের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সবাই ভালো আছেন। তবে যারা সমস্যায় রয়েছেন বা দেশে যেতে চান তাদের বেলায় ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সব বিষয়েই সহযোগিতা করছে।

ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ার বিএসইউএমের সভাপতি জহিরুল ইসলাম জানান, বিএসইউএম সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলটি দেশটিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশিদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে তাদের উদ্বিগ্ন না হয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে নিরাপদে থাকতে বলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সরকার, বাংলাদেশ সরকার ও দূতাবাসের শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত আলোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া অনলাইন ফরম পূরণের মাধ্যমে যার যার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

জহিরুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ১১২ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি এ সংকটময় সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে।

গোটা মালয়েশিয়া কার্যত ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে। শহরের রাস্তা জনমানবশূন্য। ১৮ থেকে ৩১ মার্চ বেঁধে দেয়া এ আদেশ বাড়িয়ে এ আদেশ চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রাণঘাতি করোনার কারণে সর্বসাধারণের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণে আনতে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।

এ দিকে চলমান পরিস্থিতিতে দূতাবাস হটলাইনের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। অনেকে দেশে যেতে যাচ্ছেন তারা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, মালয়েশিযা সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, জানালেন দূতাবাসের সংশ্লিষ্টরা।