
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এ সময় আন্দোলনকারীদের দেখামাত্রই গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বিক্ষোভ দমন করতে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য উঠে এসেছে, যা বিবিসি ফরেনসিকভাবে যাচাই করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারা যেন যেখানেই আন্দোলনকারী পায়, সেখানেই গুলি করে। সরকারি এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের সেই অডিওকে বিবিসি তাদের অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফোনালাপে সরাসরি গুলি চালানোর অনুমতি দিচ্ছেন শেখ হাসিনা—এমন বক্তব্য স্পষ্টভাবে শোনা গেছে।
বিবিসিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ওই ফোনালাপটি করেন, যা ফাঁস হয় চলতি বছরের মার্চে। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া অডিওর কণ্ঠস্বর শেখ হাসিনার সঙ্গে মিলে গেছে।
ফরেনসিক অডিও বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ সংস্থা ইয়ারশটও অডিওর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, রেকর্ডিংটি একটি ঘরে স্পিকারে বাজানো অবস্থায় ধারণ করা হয়েছিল, যাতে টেলিফোন ফ্রিকোয়েন্সি ও ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ স্পষ্ট ছিল। তারা অডিওতে কোনো ধরনের সম্পাদনা, বিকৃতি বা কৃত্রিমতা শনাক্ত করেনি।
বিশেষজ্ঞরা রেকর্ডিংয়ে ইলেকট্রিক নেটওয়ার্ক ফ্রিকোয়েন্সি (ENF) বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, অডিওতে কোনো হেরফের করা হয়নি। এছাড়া বক্তার স্বর, ছন্দ, শ্বাসের শব্দ এবং পরিবেশগত নয়েজ—সব কিছুই প্রাকৃতিক এবং ধারাবাহিক।
ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বলেন, “এই রেকর্ডিংগুলো শেখ হাসিনার ভূমিকা প্রমাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে এবং অন্যান্য প্রমাণও একে সমর্থন করছে।”
তবে আওয়ামী লীগের এক মুখপাত্র বলেন, “বিবিসির যে অডিও রেকর্ডিংয়ের কথা বলা হচ্ছে, সেটি সত্য কিনা তা আমরা নিশ্চিত নই।”



































