রবিবার । জুন ৭, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২০ আগস্ট ২০২৫, ৯:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

রণধীর জয়সওয়াল

ভারতের মাটিতে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের কোনো তথ্য নেই


Randhir-Jaiswal

ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল

ভারতের ভূখণ্ডে বাংলাদেশবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেছেন, অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ভারত অনুমোদন দেয় না এবং বাংলাদেশের অভিযোগ সঠিক নয়।

বুধবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্বেগ প্রকাশ করে সাম্প্রতিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে ‘ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশবিরোধী কোনো কার্যক্রম চলছে—এমন তথ্য ভারত সরকারের কাছে নেই। আওয়ামী লীগের নামধারী কেউ এ ধরনের কাজে যুক্ত আছেন বলেও আমাদের জানা নেই। ভারত কখনোই অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অনুমোদন দেয় না।”

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা ও ম্যান্ডেট অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব দেশে মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

India-release

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। ঢাকার দাবি, ভারতে নয়াদিল্লি ও কলকাতায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিস খোলা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞার স্পষ্ট লঙ্ঘন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২১ জুলাই দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি নামবিহীন এনজিওর আড়ালে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা গণসংযোগ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেন। ওই কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রচারপুস্তিকা বিতরণ করা হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমও এ কার্যক্রমের খবর নিশ্চিত করেছে।

ঢাকার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যদি নিষিদ্ধ দলের হয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালায়, তবে তা বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের জন্য স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ। এতে ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে আঘাত আসতে পারে এবং চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে না পারে। অবিলম্বে কলকাতা ও দিল্লির তথাকথিত আওয়ামী লীগ অফিসগুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক।