রবিবার । জানুয়ারি ১৮, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৩:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

গাদ্দাফির অর্থে নির্বাচনী প্রচার, ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজির কারাদণ্ড


Sarkozy

ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজিকে লিবিয়ার প্রয়াত নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন প্যারিসের একটি আদালত। একইসঙ্গে তাঁকে ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে গাদ্দাফির কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়েছিলেন সারকোজি। অভিযোগ করা হয়, এ সময় নগদ অর্থ, ব্যাংক লেনদেন ও অফশোর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা ফ্রান্সে আনা হয়েছিল। বিনিময়ে গাদ্দাফি ফ্রান্সের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তি ও কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রত্যাশা করেছিলেন। পাশাপাশি তাঁর ভগ্নিপতি আবদুল্লাহ সেনুসির বিরুদ্ধে ফ্রান্সের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবিও ছিল।

৭০ বছর বয়সী সারকোজি রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের বলেন, “তারা যদি আমাকে জেলে ঘুমাতে দেখতে চায়, তবে তাই হবে। কিন্তু আমি মাথা নোয়াবো না। এই রায় সম্পূর্ণ কেলেঙ্কারি।” তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আদালত জানিয়েছে, আপিল চলমান থাকলেও কয়েক দিনের মধ্যেই দণ্ড কার্যকর করা হবে।

Sarkozy-Gaddafi

রায়ের সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন সারকোজির স্ত্রী, মডেল ও সংগীতশিল্পী কার্লা ব্রুনি।

আধুনিক ফ্রান্সের ইতিহাসে এর আগে কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

২০০৫–২০০৭ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই লিবিয়ার সঙ্গে সারকোজির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। মিডিয়াপার্ট নামের ফরাসি গণমাধ্যম প্রথম এই অভিযোগ প্রকাশ করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

তদন্তে দেখা যায়, সারকোজির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ক্লোদ গেয়াঁর অ্যাকাউন্টে ২০০৮ সালে ৫ লাখ ইউরো জমা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে গাদ্দাফি নিয়ন্ত্রিত তহবিল থেকে আসা বলে নিশ্চিত করে আদালত।

নিকোলাস সারকোজি ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি গাদ্দাফিকে প্যারিসে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আমন্ত্রণ জানান, যা সে সময় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।