সোমবার । জানুয়ারি ১৯, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৩:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

অধ্যাপক ইউনূসের পাশে বিশ্বনেতারা, সহযোগিতার আশ্বাস


World Leader Yunus

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন বিশ্বের একাধিক খ্যাতনামা নেতা। শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তার হোটেল কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা এ সমর্থন জানান।

বৈঠকের নেতৃত্ব দেন লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং নিযামী গঞ্জাভি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের (এনজিআইসি) সহ-সভাপতি ভাইরা ভিকে–ফ্রেইবার্গা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরুত পাহোর, সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বোরিস তাদিচ, লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এগিলস লেভিটস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল, গ্রিসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপান্দ্রেউ, বুলগেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোজেন প্লেভনেলিয়েভ ও পেতার স্তোইয়ানোভ, ক্রোয়েশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো জোসিপোভিচ, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সাবেক প্রেসিডেন্ট এমলাডেন ইভানিচ এবং মরিশাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমিনা গুরিব-ফাকিম।

এছাড়া বৈঠকে অংশ নেন কমনওয়েলথের সাবেক মহাসচিব, জর্জিয়ার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চারজন সাবেক প্রেসিডেন্ট, কয়েকজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংকের সাবেক সহ-সভাপতি ও এনজিআইসি সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন, রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটসের প্রেসিডেন্ট কেরি কেনেডি এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ও জর্জটাউন ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির প্রতিনিধি।

নেতারা দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ন্যায়বিচারে অধ্যাপক ইউনূসের অবদানের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পাশে থাকার জন্য তারা প্রস্তুত। একজন নেতা জানান, “আমরা কাজ করতে প্রস্তুত। আপনার যা দরকার—পরামর্শ বা সহায়তা—আমরা পাশে থাকব।”

কেরি কেনেডি বলেন, “বাংলাদেশ মানবাধিকার অগ্রযাত্রায় অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে।” জর্জটাউন ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মেলান ভারভির ঘোষণা দেন, প্রতিষ্ঠানটি শিগগিরই বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের প্রতি সমর্থন দেবে। এনজিআইসি সহ-সভাপতি ইসমাইল সেরাগেলদিন বলেন, “আপনারা যদি আমাদের প্রয়োজন মনে করেন, আমরা পাশে আছি।”

অধ্যাপক ইউনূস এ সমর্থনে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এটি আমার কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আপনাদের সবাইকে একসঙ্গে পেয়ে আমি অভিভূত।” বাংলাদেশের গত ১৫ বছরের পরিস্থিতিকে তিনি ১৫ দীর্ঘ এক ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা সামাল দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। “মানুষ তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আশা করছে। তবে সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের তরুণদের স্বপ্ন পূরণে এগোতে হবে। তারা একটি নতুন বাংলাদেশ খুঁজছে।”

আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমাদের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। আপনাদের পরামর্শ, সহায়তা ও নৈতিক শক্তি অমূল্য।”