মঙ্গলবার । মার্চ ২৪, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৫ অক্টোবর ২০২৫, ১০:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকটে বিপাকে যাত্রীরা


shahjalal-trolly

ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দর। প্রতিদিন এখান দিয়ে শত শত ফ্লাইট ওঠানামা করে। কিন্তু এত বড় বিমানবন্দরের একটি পুরনো সমস্যা এখনো রয়ে গেছে—ট্রলি সংকট। একই সময়ে একাধিক ফ্লাইট অবতরণ করলেই যাত্রীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। লাগেজ পেয়ে গিয়েও ট্রলি না পেয়ে বসে থাকতে হয় দীর্ঘ সময়।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ট্রলি ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন শতাধিক কর্মী। তাদের দায়িত্ব যাত্রীদের ব্যবহার শেষে ট্রলি সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা। কিন্তু অনেকে সেই দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেন না। ফলে পর্যাপ্ত ট্রলি থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময় তা পাওয়া যায় না।

এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের মধ্যে ট্রলি নিয়ে কাড়াকাড়ির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। কখনও তা হাতাহাতিতেও গড়ায়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালেও এমন একটি ঘটনা ঘটে। সেদিন সৌদি আরব, ইরাক ও মালয়েশিয়া থেকে একসঙ্গে তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করলে লাগেজ বিভাগের সামনে যাত্রীদের ভিড় জমে যায়। ট্রলি না পেয়ে দুই যাত্রীর মধ্যে তর্ক থেকে হাতাহাতি হয়। পরে আনসার ও এপিবিএন সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মালয়েশিয়া ফেরত রুবেল নামের এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাত আড়াইটায় ফ্লাইট ছাড়লেও ঢাকায় এসে লাগেজ পেতে অনেক সময় লেগেছে। ট্রলি না থাকায় অনেকে বসে ছিলেন। বিশেষ করে যারা পরিবার নিয়ে ফিরেছেন, তারা খুব বিপাকে পড়েছেন।”

তিনি আরও জানান, “বিমানবন্দরের কর্মীরা খুব ধীরগতিতে কাজ করেন। বাইরে ট্রলি থাকলেও কেউ তা ভেতরে আনছিল না। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ৩০-৪০টি ট্রলি এনে দেওয়া হয়।”

একজন ইরাক ফেরত যাত্রী বলেন, “একসঙ্গে তিন শতাধিক যাত্রী নামছে, কিন্তু ট্রলি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০-৬০টি। বাকি ট্রলিগুলো কোথায় থাকে সেটা কেউ জানে না। কর্মীরা যদি ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে এ রকম হতো না।”

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান রাগিব সামাদও ট্রলি সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “একসঙ্গে একাধিক ফ্লাইট নামলে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। তখন ট্রলি সংকট দেখা দেয়।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পুরনো ট্রলিগুলো দিয়েই কাজ চলছে। নতুন ট্রলি কেনার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।