রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজনীতি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৪০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বামীর পাশে খালেদা জিয়ার দাফন আজ সাড়ে তিনটায়


Khaleda Zia Aposhin C

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা আজ বুধবার বাদ জোহর বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

জানাজা পড়াবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, কূটনীতিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেবেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং মঙ্গলবার দুপুরে এসব তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, জানাজা ও দাফন রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হবে। এ সময় সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। পরে দুপুরে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তাঁর জানাজা জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অংশ নেন। তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদকে অবহিত করেন।

মঙ্গলবার উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শুরু হয় এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। আসিফ নজরুল বলেন, গোটা জাতির মতো সরকারের সদস্যরাও গভীরভাবে শোকাহত। সভায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ উপলক্ষে আগামীকাল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, জানাজা ও দাফন উপলক্ষে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভায় বেগম জিয়ার স্মৃতিচারণ করেন এবং সেনাসদরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, দেশের ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিনশ্বর হয়ে থাকবে। এমন একজন নেত্রীর প্রয়াণ একটি বিশেষ ও বেদনাদায়ক মুহূর্ত। তিনি সবাইকে জানাজা ও দাফনে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও হাইকমিশনে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গোটা জাতি গভীর শোক ও বেদনায় আচ্ছন্ন। তাঁর ইন্তেকালে দেশ একজন মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।