
সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজাস্থল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এখন এক শোকাতুর ও আবেগঘন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জানাজার সময় নির্ধারিত থাকলেও কাকডাকা ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষের ভিড়ে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে আসা মানুষের দীর্ঘ সারি সামলাতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার প্রবেশপথও উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
জানাজাস্থলে স্থাপিত বড় বড় এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠছে বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের পুরোনো ছবি। মাইকে প্রচার করা হচ্ছে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস এবং বিভিন্ন সময়ে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভাষণগুলো।
বিশেষ করে, ২০১৫ সালে লন্ডনে দেওয়া তাঁর সেই ঐতিহাসিক উক্তিটি আজ বারবার বাজানো হচ্ছে— ‘দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই। দেশই হলো আমার ঠিকানা। এই দেশ, এই দেশের মাটি ও মানুষই আমার সবকিছু।’ নেত্রীর এই কণ্ঠস্বর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন উপস্থিত অনেক নেতাকর্মী।
২০০৭ সালের ‘মাইনাস–টু’ ফর্মুলার সময় যখন তাঁকে দেশ ছাড়ার প্রবল চাপ দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, “বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই। মরলে এ দেশের মাটিতেই মরবো।” জেল–জুলুম সহ্য করলেও তিনি যে দেশ ছাড়েননি, আজ তাঁর প্রয়াণের দিনে সেই অনড় অবস্থানের কথাই বারবার উচ্চারিত হচ্ছে লাখো মানুষের মুখে।
জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে। দাফন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে জিয়া উদ্যান এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে। এ সময় মরহুমার পরিবারের সদস্য, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি অতিথি ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি নেত্রী। তাঁর জানাজা ও দাফন কার্যক্রমকে ঘিরে রাজধানীতে ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনসহ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




































