রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

শরণার্থী শিবিরে ২৫ ভবন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল


gaza

ছবি: সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের একটি শরণার্থী শিবিরে ২৫টি আবাসিক ভবন ভাঙার কার্যক্রম শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে প্রায় ১০০টি ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর মুখে পড়েছে। ইসরায়েলের দাবি, সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর তৎপরতা দমনের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

বুধবার ভোরে বুলডোজার ও ক্রেন ব্যবহার করে নূর শামস শরণার্থী শিবিরে ভবন ভাঙা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ধ্বংসযজ্ঞের সময় পুরো এলাকা ধুলায় ঢেকে যায়। অনেক বাসিন্দাকে দূরে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙতে দেখার দৃশ্য দেখা গেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর সামারিয়ার নূর শামস এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে। কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ জরুরি সামরিক প্রয়োজন দেখিয়ে ভবনগুলো ভাঙার নির্দেশ দেন। তাদের ভাষ্য, ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি সেনাদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

চলতি বছরের শুরুতেই নূর শামস, তুলকারেম ও জেনিন শরণার্থী শিবিরে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েল। সেনাবাহিনীর দাবি, অভিযানের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এসব এলাকা থেকে এখনও অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার হচ্ছে।

ডিসেম্বরের শুরুতে ভবন ধ্বংসের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা আগেভাগেই ঘরের মালামাল সরিয়ে নেন। তবে তাদের অনেকেই জানিয়েছেন, যাওয়ার মতো বিকল্প কোনো আশ্রয় তাদের নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, শরণার্থী শিবিরের ভেতরে সামরিক যান চলাচল সহজ করতেই ভবন ভাঙার এই কৌশল গ্রহণ করেছে ইসরায়েল।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে ইসরায়েল। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়ের জন্য নূর শামসসহ এসব শরণার্থী শিবির গড়ে ওঠে, যা সময়ের সঙ্গে ঘন জনবসতিতে পরিণত হয়েছে।