
ফাইল ছবি
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দলটির শীর্ষ পদটি শূন্য হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্বয়ংক্রয়িভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন তারেক রহমান। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা ও গঠনতন্ত্রের ধারা বিশ্লেষণে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কৌশলগত কারণে এবং বর্তমানে চলমান শোকাবহ পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে এখনো এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি দলটি।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারার উপধারা ৩ অনুযায়ী, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন।
এর আগে, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হওয়ার পর একই ধারার উপধারা ২ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তারেক রহমান। এখন মায়ের মৃত্যুর পর তিনি পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান চেয়ারম্যান পদে আসীন হলেও দলটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক পত্র বা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ পদবিই ব্যবহার করা হচ্ছে। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো চলমান রাষ্ট্রীয় ও দলীয় শোক।
দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমান বর্তমানে মাতৃহীন শোকাতুর অবস্থায় আছেন। এমন পরিস্থিতিতে পদ-পদবি নিয়ে আনুষ্ঠানিকতা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ এখন অভিভাবকহীন। তিনি বলেন, “তারেক রহমান এখন শোকাতুর। এ অবস্থায় পদবি নিয়ে কেউ চিন্তিত নয়, তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনিই এখন দলের চেয়ারম্যান।”
১৯৮১ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে যুক্ত হন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। গত মে মাসে তার এই দায়িত্ব পালনের ৪১ বছর পূর্ণ হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়।
দলের আগামী স্থায়ী কমিটির সভায় তারেক রহমানের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্তি বা পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানা গেছে।









































