সোমবার । মার্চ ২৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত


Bangladesh-Government

ফাইল ছবি

দেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং টিকিট নিয়ে অনিয়ম ও অভিবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে সরকার নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে। ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ সংশোধন করে এই অধ্যাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) অধ্যাদেশটি জারি করেন। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের বিষয়টি শুক্রবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

নতুন বিধানে অনলাইন ও অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য আলাদা ব্যাংক গ্যারান্টির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সিকে ১০ লাখ টাকা এবং অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিকে ১ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে।

অধ্যাদেশে টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে ‘ফলস বুকিং’ বা বানোয়াট আসন সংরক্ষণকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এক ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকে অন্য এজেন্সির টিকিট কেনা-বেচা (বিটুবি) বন্ধ করা হয়েছে। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গ্রাহক সুরক্ষার বিষয়টিও নতুন আইনে গুরুত্ব পেয়েছে। কোনো ট্রাভেল এজেন্সি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, প্রতারণামূলক অফার বা আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ নিতে পারবে না। অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে টিকিট কেনা-বেচা কিংবা টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

সংশোধিত আইনে শাস্তির মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা এজেন্সিকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রতারণা ও দুর্নীতি ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নিবন্ধন নবায়নের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম যুক্ত হয়েছে। ট্রাভেল এজেন্সির সনদ প্রতি তিন বছর অন্তর নবায়ন করতে হবে এবং প্রতিবছর সরকারকে আর্থিক বিবরণীসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ খেলাপি ব্যক্তিদের ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।