সোমবার । মার্চ ২৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান টিআইবির


TIB

বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের থাকা ও খাওয়ার ব্যয় বহনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারী বলে আখ্যা দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের পরিপন্থি।

মঙ্গলবার টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন এবং অবিলম্বে সিদ্ধান্তটি বাতিলের আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির মাধ্যমে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর যুক্তিতে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত উল্টো ক্ষতিকর হতে পারে। এ সিদ্ধান্ত স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক, কারণ বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য এ ধরনের সুবিধা দেওয়া হলে দেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তায় দায়িত্ব পালন করলে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কারণ, পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার মূল্যায়নও অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা কমিশনের অর্থায়নে কতটা স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্তভাবে সম্ভব- সে বিষয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৮ সাল বা তার আগে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। অথচ ২০১৮ ও ২০২৪ সালে কেন এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আত্মজিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ইসি বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দায়িত্ব পালন করা নৈতিকতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের মানদণ্ডে কতটা গ্রহণযোগ্য- তা তাদের বিবেচনা করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এ ধরনের আতিথেয়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আগের সরকারের প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়েছিল, তা বর্তমান নির্বাচন কমিশন উপলব্ধি করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনমনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে যে বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বিতর্কিত করার পথ থেকে ইসিকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।