
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রায়েরবাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি)। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহযোগিতা করে। গত ৭ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, নিখোঁজ স্বজনের সন্ধানে এ পর্যন্ত ৯টি পরিবার ডিএনএ নমুনা দিয়েছে। পরীক্ষায় আটজন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যাদের সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন সোহেল রানা, রফিকুল ইসলাম (৫২), আসাদুল্লাহ, মাহিন মিয়া, ফয়সাল সরকার, পারভেজ বেপারী, কাবিল হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)।
কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ সিআইডিকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেন।
প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সত্য উদঘাটন ও শহীদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিখোঁজ পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি আরও বলেন, ‘এই ডিএনএ শনাক্তকরণ কার্যক্রম প্রমাণ করে, সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে, আর তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন লিপিবদ্ধ থাকবে।’
সিআইডি জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।


































