
জেএফ-১৭
নতুন বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর পাকিস্তানের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান আলোচনায় এসেছে। বৈঠকে বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর পুরোনো যুদ্ধবিমান বহর আধুনিকীকরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে পাকিস্তানের সহযোগিতার কথা উঠে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় জেএফ-১৭ কেনার সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর।
এর পাশাপাশি সৌদি আরব, লিবিয়া ও আজারবাইজানসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গেও জেএফ-১৭ বিক্রি নিয়ে পাকিস্তানের আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সংঘটিত চার দিনের বিমান সংঘর্ষের পর পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সক্ষমতা নতুন করে আন্তর্জাতিক নজর কাড়ে, যা জেএফ-১৭-এর চাহিদা বাড়িয়েছে।
কী এই জেএফ-১৭ থান্ডার?
জেএফ-১৭ থান্ডার একটি হালকা ও বহু-উদ্দেশ্যবিশিষ্ট যুদ্ধবিমান, যা যৌথভাবে তৈরি করেছে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (PAC) ও চীনের চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশন। ২০০৯ সালে প্রথমবার পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যুক্ত হয় এ বিমান। বর্তমানে এর সবচেয়ে আধুনিক সংস্করণ ব্লক-৩, যা ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত।
এই সংস্করণে রয়েছে আধুনিক অ্যাভিওনিক্স, AESA রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সক্ষমতা। যদিও এটি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের মতো স্টেলথ নয়, তবে মাঝারি খরচে কার্যকর যুদ্ধক্ষমতা দেয়।
কারা কিনেছে জেএফ-১৭?
মিয়ানমার প্রথম বিদেশি ক্রেতা হিসেবে ২০১৫ সালে জেএফ-১৭ কেনে। এরপর নাইজেরিয়া ও আজারবাইজানও এই বিমান তাদের বহরে যুক্ত করেছে। আরও কয়েকটি দেশ—যেমন ইরাক, শ্রীলঙ্কা ও সৌদি আরব—বিভিন্ন সময়ে আগ্রহ দেখালেও চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।
কেন আগ্রহ বাড়ছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেএফ-১৭-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর কম দাম (২৫–৩০ মিলিয়ন ডলার), তুলনামূলক কম রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধ অভিজ্ঞতা। পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের মতো কঠোর রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই এটি পাওয়া যায়, যা অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য সুবিধাজনক।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গ
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। জেএফ-১৭ বা সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান কেনা শুধু বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের ইঙ্গিতও বহন করে।
আল জাজিরা অবলম্বনে



































