
জবাবে ভলকার তুর্ক সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার মোকাবিলায় সরকারকে সহায়তা করতবে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তার কাছে এ বিষয়ে সহায়তা চান। জবাবে ভলকার তুর্ক সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন।
টেলিফোনে আলাপকালে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্যের বন্যা বইছে। বিদেশি গণমাধ্যম ও স্থানীয় উভয় উৎস থেকেই এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর, গুজব ও নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”
এ সময় হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং ক্রমবর্ধমান এই ভুয়া তথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। সমস্যা মোকাবিলায় যা কিছু প্রয়োজন, আমরা তা করব।
আলাপকালে দুই নেতা আসন্ন নির্বাচন, গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কাজ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
ভলকার টুর্ক গুম সংক্রান্ত বিষয়গুলোর কাজ এগিয়ে নিতে “একটি সত্যিকার অর্থে স্বাধীন” জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন।
জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এনএইচআরসি অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। “আমরা দায়িত্ব ছাড়ার আগেই এটি সম্পন্ন করব,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
অধ্যাপক ইউনূস আরও জানান, তিনি গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তিনি প্রতিবেদটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরাচারী শাসনামলে গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেওয়া উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তার কার্যালয় গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কাজে সহায়তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
এ সময় এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।







































