
ফাইল ছবি
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। বুধবার (আজ) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।
রিটে মন্ত্রিপরিষদসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, লুণ্ঠিত সব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এবং নির্বাচনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন।
রিটে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কার্যালয় থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। সরকার এসব অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও এর একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আবেদনে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার কিছু প্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও দেশের সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
এই পরিস্থিতিতে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ছাড়াই নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার, অর্থাৎ ‘জীবনের অধিকার’-এর চরম লঙ্ঘন হবে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।






































