
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করতে সবাই ‘একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ’ থাকুন।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান এ আহ্বান জানান।
এসময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে স্লোগান হবে একটাই। সেটা হলো— করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। সবার মনে রাখতে হবে— আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। তরুণ-যুবক যারা, তারা আপনারা বইয়ের পাতায় পড়েছেন, মুরুব্বি যারা আছে, আমাদের বয়সী যারা আছে, তারা দেখেছেন, জানেন; সেই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই যুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে এই দেশের ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।
তিনি বলেন, সেই একাত্তর সালের যুদ্ধই হোক, ২৪-এর আন্দোলনই হোক— কে পাহাড়ি মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ, এটি কিন্তু কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে, একাত্তর সালে যুদ্ধে সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছে। কে মুসলিম, কে খ্রিষ্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ, কেউ দেখেনি। এবারও ১২ তারিখে নির্বাচনে আমাদের সকলকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ একসাথে থাকতে হবে।
তারেক রহমান এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, আমরা যদি একসাথে থাকি, আমরা যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা যদি একসাথে থাকি, আমরা যেভাবে স্বৈরাচার বিদায় করেছি, আমরা যদি ইনশাল্লাহ সামনের দিনে একসাথে থাকি— তাহলে অবশ্যই এই বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যেতে পারব।
তিনি বলেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা ও শেরপুরের বিএনপির ২৩ প্রার্থীকে ধানের শীষ হাতে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, আমি আপনাদের দায়িত্ব দিলাম, তাদেরকে বিজয়ী করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।
সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তারেক রহমান দুপুরে সড়কপথে ময়মনসিংহ আসেন। ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা, শেরপুর এই চার জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা সার্কিট হাউজের বিশাল মাঠে অংশ নেন।
ঢাকা থেকে সড়কপথে তারেক রহমান ময়মনসিংহ শহরে পৌঁছান সাড়ে ৩টায়। ভিড় ডিঙিয়ে তার গাড়িবহর সার্কিট হাউজ মাঠে পৌঁছাতে নিরাপত্তা কর্মীদের বেগ পেতে হয়। মঞ্চে তারেক রহমানের সাথে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও ছিলেন।
ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা ভোট কেন্দ্রের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। ভোট শুরু হবে, সাথে সাথে ভোট দেওয়া ইনশাল্লাহ শুরু করবেন। কিন্তু, ভোট দিয়ে সাথে সাথে চলে আসলে চলবে না। ভোটকেন্দ্রের সামনে থাকতে হবে। কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নিয়ে আসবেন।
তিনি বলেন, বহু বছর হয়ে গেছে আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। যেহেতু আমরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাইনি। এর আগে বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে ভোট লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এবার আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। যাতে করে কেউ আমাদের ভোট লুটপাট করে নিয়ে যেতে না পারে।
উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, পারবেন তো পাহারা দিয়ে সতর্ক থাকতে? সমস্বরে সবাই হ্যাঁ বললে তারেক রহমান বলেন, ইনশাল্লাহ।
নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড, বেকার সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থাসহ সরকার গঠন করলে কী কী করতে চান তার একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান তিনি।
দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ-৫ আসনের প্রার্থী জাকির হোসেন বাবুলের সভাপতিত্বে ও মহানগর সদস্য সচিব রুকুনুজ্জামান সরকার ও উত্তর জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে ২৩ আসনের প্রার্থীরা ছাড়াও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমসহ জেলা ও মহানগরের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
ময়মনসিংহে সমাবেশ শেষ করে নির্বাচনী আরেক সমাবেশে যোগ দিতে গাজীপুরের রাজবাড়ি কলেজ মাঠের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তিনি।









































