রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়ায় টিআইবির গভীর উদ্বেগ


TIB

একটি সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় থেকে রাতে ২১ জন কর্মীকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এ ঘটনা দেশের গণমাধ্যমের ওপর ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির একটি গুরুতর দৃষ্টান্ত।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোট ও প্রাক্-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যের শুরুতেই ড. ইফতেখারুজ্জামান আগের রাতে ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর কার্যালয় থেকে ২১ জন কর্মীকে তুলে নেওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া রাতের বেলা একটি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীকে তুলে নেওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, যেকোনো যুক্তিতেই হোক না কেন, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক ও সহিংসতার বার্তা দেয়।

তিনি আরও বলেন, কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পথ রয়েছে। কিন্তু স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় এভাবে কর্মীদের তুলে নেওয়া—যদিও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—তবুও এটি শুধু একটি গণমাধ্যমের জন্য নয়, বরং দেশের সব সংবাদমাধ্যমের জন্য ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করেছে।

এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো সেনা কর্মকর্তা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন কি না, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। আর অনুমোদন ছাড়া যদি এ ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে সেনাবাহিনীর ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল’ ব্যবস্থা কোথায়—সে প্রশ্নও উঠে আসে।

এ প্রসঙ্গে তিনি দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও উল্লেখ করেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অথচ মাত্র দুই দিন আগেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে ‘জাতির দর্পণ’ আখ্যা দিয়ে ভীতিহীনভাবে সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

কথার সঙ্গে কাজের এই অসঙ্গতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক সেনাবাহিনীসহ সব প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং দেশে মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন।