
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে রুমিন ফারহানা ও জাতীয় পার্টির নেতাদের উপস্থিতিতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ সমর্থনের কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ভাসানী বলেন, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা মিথ্যা মামলা ও নানা ধরনের হুমকির মুখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আমাদের দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন—জাতীয় পার্টির সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা যেন রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করেন।’
রুমিন ফারহানার প্রতি সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করে আব্দুল হামিদ ভাসানী বলেন, নির্বাচন করার কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলেও রুমিন ফারহানা বিভিন্ন সংকটে জাতীয় পার্টির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর জাতীয় পার্টির বিভিন্ন কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন রুমিন ফারহানা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, কারও বাড়ি বা অফিসে আগুন দেওয়া অন্যায়। এছাড়া আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবির বিরুদ্ধেও তিনি অবস্থান নিয়েছেন এবং বলেছেন, রাজনীতি করা এই দেশের নাগরিক অধিকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছিল, তখন রুমিন ফারহানা বলেছিলেন—জাতীয় পার্টি একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং তারা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। বিনা কারণে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা যায় না। এসব কারণে আমরা মনে করি, তিনি সারা দেশের একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।’
সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানা বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেবেন না—এ সিদ্ধান্তের পর দলটি সাংগঠনিকভাবে তার নির্বাচনি প্রতীক হাঁস মার্কাকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
নির্বাচিত হলে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। আগে নির্বাচন করতে হবে, জয়লাভ করতে হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। যাতে কোনোভাবেই পেশিশক্তি, কালো টাকা, ভয়ভীতি কিংবা হুমকি-দমকির কারণে কোনো যোগ্য প্রার্থী ভোটারের ভোট থেকে বঞ্চিত না হয়। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে, সঠিকভাবে ভোট গণনা হয় এবং নির্ভুলভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়—এ লক্ষ্যেই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছি।’






































