
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির তিন জন হেভিওয়েট প্রার্থীর ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতা নিয়ে করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। এই তিন প্রার্থীর নির্বাচন করতে আর কোনো বাধা রইলো না।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি হয়।
এর আগে, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত শুনানির জন্য এ দিন ঠিক করেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আবেদনগুলো কার্যতালিকায় রয়েছে।
এর মাঝে ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনি সমীকরণে অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ড. এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে প্রার্থিতা স্থগিতের আবেদন করেছিলেন এনসিপি প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল, কাইয়ুম ভানুয়াতু নামক একটি দেশের নাগরিক। গত ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এই রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিলে নাহিদ ইসলাম আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে লিভ টু আপিল করেন। আদালত আজ এই আবেদনের শুনানি নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে বলে আদেশ দিয়েছেন, যার ফলে এম এ কাইয়ুমের নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা থাকল না।
একইভাবে কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের প্রার্থিতার বৈধতাও উচ্চ আদালতে টিকে রইল। রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলেও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল। ইসি এবং পরবর্তীতে হাইকোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দিলে তিনি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। আজ আপিল বিভাগ ইউসুফ সোহেলের সেই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন, যা কায়কোবাদের প্রার্থী হওয়ার পথকে চূড়ান্তভাবে নিষ্কণ্টক করেছে।
অন্যদিকে, বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়েও দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। শুরুতে ঋণখেলাপির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও অন্য এক প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেও পরবর্তীতে তারা আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। তবে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাহাবুদ্দিন এ নিয়ে হাইকোর্টে রিট করলে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর সাহাবুদ্দিনের পক্ষ থেকে করা লিভ টু আপিলের শুনানিও নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে বলে আজ আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর ফলে বগুড়া-১ আসনে কাজী রফিকুল ইসলামের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়তে আর কোনো বাধা থাকল না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে এই তিন প্রার্থীই তাঁদের নিজ নিজ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।







































