রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটের হার জানাবে ইসি


Election Commission

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোট গ্রহণ চলাকালীন নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ভোট প্রদানের হার সংগ্রহ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

গতকাল সোমবার ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এই সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, ভোটের দিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত এই তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট শেষ হওয়ার পর প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিবরণী অনুযায়ী প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে তা প্রকাশ করা হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ফলাফল সংগ্রহের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নাম, পদবি এবং যোগাযোগের মাধ্যমগুলো আগেভাগেই চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, ফলাফল ও পরিস্থিতি প্রতিবেদনের জন্য দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাঁদের নির্ধারিত ইন্টারনাল অ্যাকাউন্ট বা নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন কি না। বিশেষ করে ইন্টারনেট সংযোগ, ই-মেইল এবং ইন্টারনাল সাইটগুলোর কার্যকারিতা আগেভাগেই যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ফলাফল পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে ইসি সচিবালয়ের ইন্টারনাল সাইটে থাকা ‘ইএমএস’ (EMS) সফটওয়্যারের নির্ধারিত মডিউল ব্যবহার করা হবে। ভোট গ্রহণ শেষে নির্ধারিত ‘বার্তা প্রেরণ শিট’-এ রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরে ফলাফল পাঠাতে হবে। তবে কোনো জরুরি প্রয়োজনে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরে আংশিক ফলাফল পাঠানো গেলেও চূড়ান্ত ফলাফলে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নমুনা স্বাক্ষর ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফলাফল ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইসি। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে দক্ষ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগের পাশাপাশি ল্যাপটপ, স্ক্যানার ও প্রিন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গ্রামীণফোন ও টেলিটকের মডেম ব্যবহারের পাশাপাশি স্থানীয় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের সংযোগও প্রস্তুত রাখা হবে। 

প্রতিটি কেন্দ্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল একই সাথে এন্ট্রি করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে করে নির্ভুল ও দ্রুততম সময়ে দেশের মানুষ ভোটের সঠিক ফলাফল জানতে পারে।