রবিবার । এপ্রিল ৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ৫ এপ্রিল ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার

উপকূলে তরমুজের বাম্পার ফলনে ৭২৩ কোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা


water melon

খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলায় প্রায় ৭২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ

খুলনাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে এবার তরমুজের চোখধাঁধানো ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এই মৌসুমে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলায় প্রায় ৭২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ। সবকিছু ঠিক থাকলে চাষিদের পকেটে নিট মুনাফা হিসেবে ঢুকবে প্রায় ৪১৩ কোটি টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের রবি মৌসুমে এই অঞ্চলের চার জেলায় ১৮ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে গত বছরের লোকসান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়ে এবার আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে এককভাবে খুলনা জেলাতেই আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ১৫৬ হেক্টর। এছাড়া বাগেরহাটে ১৬৪ হেক্টর, সাতক্ষীরায় ৪৭১ হেক্টর এবং নড়াইলে ১৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে তরমুজ চাষে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। বিপরীতে প্রতিটি বিঘা থেকে ৭০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন তারা। অর্থাৎ বিঘাপ্রতি নিট লাভ হতে পারে ৪০ হাজার টাকা। বড় কোনো দুর্যোগ না হলে এবার গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত অর্থবছরে খরা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় চাষিরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় অনেক প্রান্তিক চাষি এবার আবাদে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ হাজার ২৪৫ হেক্টর কম জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। তবে যারা আবাদ করেছেন, তাদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।

বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ক্ষেতে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা চলছে। পোকা দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে সেক্সফেরোমন ও হলুদ আঠালো ফাঁদ। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে পুরোদমে তরমুজ কাটা শুরু হবে।

খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “গত বছর খরার কারণে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বড় ধরনের কালবৈশাখী বা শিলাবৃষ্টি না হলে এই অঞ্চলের উৎপাদিত তরমুজ দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।”