বুধবার । মে ১৩, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক উদ্যোগ ১৩ মে ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে কোনো গ্যারান্টি ছাড়াই


entrepreneur

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে কোনো গ্যারান্টি ছাড়াই

বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা আশাব্যঞ্জক হারে বাড়লেও ব্যবসা শুরু বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যাপ্ত পুঁজির অভাব। অনেক নারী ঘরে বসে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পোশাক, হস্তশিল্প, খাবার কিংবা প্রসাধনসামগ্রীর ব্যবসা করছেন; কেউ আবার গড়ে তুলছেন ছোট কারখানা, বুটিক বা কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ। কিন্তু ব্যবসা বড় করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়, কাঁচামাল সংগ্রহ বা বিপণন খরচের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন জোগাড় করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে জামানত সংকটের কারণে ব্যাংক ঋণ পাওয়া যেখানে দুষ্কর, সেখানে নারী উদ্যোক্তাদের আশার আলো দেখাচ্ছে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের বিশেষ ঋণসেবা ‘আইডিএলসি এসএমই পূর্ণতা’।

২০১৫ সাল থেকে চালু হওয়া এই সেবার আওতায় একজন নারী উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। এই ঋণের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য কোনো ধরনের জামানতের প্রয়োজন হয় না। উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসার নগদপ্রবাহ বিবেচনা করে এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে মাসিক সমান কিস্তিতে (ইএমআই) এই ঋণ পরিশোধের সুযোগ পান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন সেবার আওতায় এই ঋণের সুদের হারও তুলনামূলক কম, যা অনেক ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকে। আবেদন করার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ঋণ প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হয়, যা সাধারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় অনেক দ্রুত।

আইডিএলসির তথ্যমতে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত হাজার নারী উদ্যোক্তাকে এই সেবার আওতায় ৪ হাজার ২১৪ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে ‘পূর্ণতা’ কেবল একটি ঋণ কর্মসূচি নয়; এটি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও কাজ করে। অনেক উদ্যোক্তা ব্যাংকিং প্রক্রিয়া বা ব্যবসায়িক নথিপত্র সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় পিছিয়ে থাকেন।

আইডিএলসি তাদের ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন সনদ, পরিবেশগত ছাড়পত্র, বিএসটিআই সনদ ও ফায়ার সার্ভিসের ক্লিয়ারেন্সের মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে সরাসরি সহযোগিতা করে।

এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা বাড়াতে আইডিএলসি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করে। এর মধ্যে হিসাবরক্ষণ, কার্যকর মূলধন ব্যবস্থাপনা, বিপণন, মানবসম্পদ ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত।

পাশাপাশি ডিজিটাল বিপণনের এই যুগে ফেসবুক বা ই-মেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কীভাবে ব্যবসার প্রচার বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় পরামর্শ। নারী উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য রয়েছে ‘পূর্ণতা ক্লাব’ এবং যেকোনো তথ্যের জন্য রয়েছে ডেডিকেটেড হেল্পলাইন ও হেল্পডেস্ক।

এই ঋণ সুবিধার জন্য আগ্রহী উদ্যোক্তাদের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন সনদ ও কর প্রদানের সনদের পাশাপাশি গত ১২ মাসের বিক্রির প্রতিবেদন, ভাড়ার রসিদ ও ব্যাংক হিসাবের বিবরণী জমা দিতে হয়। জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা এবং ব্যবসায়িক অন্যান্য দাপ্তরিক কাজে সহায়তার ফলে ‘পূর্ণতা’ দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক সহায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বাংলা টেলিগ্রাফ উদ্যোগের গল্প