
লিওনেল মেসি ।। সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসির গল্পটা যেন শেষই হচ্ছে না। বয়স ৩৮, ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এক ফুটবল জাদুকর আবারও লিখলেন নতুন ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের সাক্ষী হলো কানসাস সিটির প্রায় ৭০ হাজার দর্শক।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করলেন এই ছোট জাদুকর।
বুধবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি। পাঁচটি বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড আছে জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউস, মেক্সিকোর আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো ও গিয়ের্মো ওচোয়া এবং পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করার মাধ্যমে ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করেন লিওনেল মেসি। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে মেসি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ।
বিশ্বকাপে মেসির যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে জার্মানিতে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। কাকতালীয়ভাবে মবুধবারের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ঠিক ২০ বছর পর, যেদিন তিনি সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছিলেন।
আরও একটি রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক হ্যাটট্রিককারী ফুটবলার। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদোর দখলে। পাশাপাশি বিশ্বকাপে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করা প্রথম খেলোয়াড়ও এখন মেসি।
ম্যাচের শেষদিকে তাকে পরিবর্তে তুলে নেওয়া হলে প্রায় ৭০ হাজার দর্শক দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান। কানসাস সিটির দর্শকদের করতালির মধ্য দিয়ে মাঠ ছাড়েন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এই মহাতারকা।
বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডও মেসির দখলে। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপেই তিনি জার্মানির লোথার ম্যাথাউসের ২৫ ম্যাচের রেকর্ড ভেঙেছিলেন। এছাড়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় মাঠে থাকার রেকর্ডও তার নামের পাশে রয়েছে।
২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছিলেন মেসি। এবারও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। যদি আলবিসেলেস্তেরা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিততে পারে, তাহলে মেসি হবেন আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক, যিনি দলকে দুটি বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছেন। এমন কীর্তি অর্জন করতে পারেননি দেশটির আরেক কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাও।
ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন মেসির দিকে—কারণ প্রতিটি ম্যাচেই তিনি ভাঙবেন পুরোনো রেকর্ড, গড়বেন নতুন ইতিহাস।
বাংলা টেলিগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস











































