
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ইসরায়েলকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগ বা মানুষ হত্যা করে করা যায় না।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইসরায়েলের কিছু নেতা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার সমালোচনা করছেন। তাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘আপনাদের বিকল্প প্রস্তাব কী? মাত্র ৯০ লাখ মানুষের একটি দেশ হিসেবে আপনারা প্রতিটি জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান শুধু মানুষ হত্যা করে করতে পারবেন না।’
তিনি ইসরায়েলকে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা রাখার পরামর্শ দেন। ভ্যান্স বলেন, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে কাজ করে আসছে।
শুধু ভ্যান্স নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘অনেক বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।’
ট্রাম্পের মতে, কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজতে গিয়ে পুরো একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস করে দেওয়া উচিত নয়, কারণ সেখানে অনেক নিরীহ মানুষও বসবাস করে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন। চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অনেক নেতা এবং কিছু রিপাবলিকানও অভিযোগ করেছেন যে, এই চুক্তি ইরানের পক্ষেই বেশি সুবিধাজনক হয়েছে। তাদের মতে, যুদ্ধের মাধ্যমে এমন কোনো অর্জন হয়নি যা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেও পাওয়া যেত না।
এর জবাবে ভ্যান্স বলেন, যুদ্ধের ফলে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা, প্রচলিত সামরিক শক্তি এবং অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে। তাই তিনি এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
ভ্যান্সের মতে, যদি ইরান তার নীতি পরিবর্তন না করে, তাহলে তার সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচি আগের তুলনায় অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় থাকবে। আর যদি নীতি পরিবর্তন করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ইরান শেষ পর্যন্ত যে পথই বেছে নিক, উভয় ক্ষেত্রেই এটি মার্কিন জনগণ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি জয়।’
চুক্তিতে যেসব প্রশ্নের উত্তর নেই
চুক্তির আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠন, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং বাকি নিষেধাজ্ঞাগুলো ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করবে।
তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও এই সমঝোতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, যা ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী মহলের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ।
ভ্যান্স অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন যে ভবিষ্যৎ আলোচনায় এমন একটি চুক্তি হবে, যা ইরানকে এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে বাধা দেবে যা বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।








































