
১৮ বছর বয়সী আয়ুব বুয়াদি [বল পায়ে] এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তরুণ তারকা
মাত্র কয়েক মাস আগেও বুয়াদিকে ফ্রান্স জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তিনি ফ্রান্সের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলেছেন এবং সর্বশেষ মার্চ মাসেও ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়ক ছিলেন। কিন্তু বিশ্বকাপের মূল দলে ডাক না পাওয়ায় সুযোগটি লুফে নেয় মরক্কো।
ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম তাকে জাতীয় দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সাবেক ফরাসি ফুটবলার জেরোম রোথেন পর্যন্ত বলেছেন, বুয়াদির প্রতিভা অনেক আগেই স্পষ্ট ছিল এবং তাকে অপেক্ষায় রাখা উচিত হয়নি।
বুয়াদির উত্থান অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে ১৭তম জন্মদিনের আগেই তিনি ফরাসি ক্লাব লিল-এর হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদকে হারানোর ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই ম্যাচে তিনি ফ্রান্সের জাতীয় দলের তারকা এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও অরেলিয়েন চুয়ামেনির বিপক্ষে খেলেও দারুণ আত্মবিশ্বাস দেখান।
ব্রাজিলের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচে বুয়াদি ছিলেন মরক্কোর মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা। ম্যাচে তিনি ৯১ শতাংশ পাস সফল করেন এবং আক্রমণভাগে দেওয়া তার ১৬টি পাসের সবগুলোই সঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়। তার নিয়ন্ত্রণ, বল দখল এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা ফুটবল বিশ্লেষকদের মুগ্ধ করেছে।

শুধু ফুটবল নয়, পড়াশোনাতেও সমান মনোযোগী বুয়াদি। ১৬ বছর বয়সেই তিনি ফরাসি ব্যাকালোরিয়া পরীক্ষা সম্পন্ন করেন, যা সাধারণত এক বছর পরে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি গণিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পড়াশোনা করছেন।
ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসার পেছনে রয়েছে পারিবারিক প্রভাবও। তার বাবা হাসান বুয়াদি ছিলেন একজন হ্যান্ডবল খেলোয়াড়। পরে তিনি ব্যাংকিং খাতে পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ফ্রান্সের ক্রেইল শহরের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ছেলেকে উৎসাহ দিয়েছেন তিনি।
যদিও বুয়াদির মরক্কোর হয়ে খেলা এখন অনেকের কাছে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে কিন্তু সিদ্ধান্তটি অত সহজ ছিল না। মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি জানিয়েছেন, বুয়াদিকে দলে আনার জন্য একাধিকবার তার সঙ্গে আলোচনা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মে মাসে ফিফা তার জাতীয়তা পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদন করে।
বর্তমান মরক্কো দলটিকে নতুন রূপ দিতে চায় দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা দলের অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের বিদায়ের পর নতুন প্রজন্মের মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন বুয়াদি। অনেক সমর্থকের কাছে তিনি এখন ‘নতুন মরক্কো’র প্রতীক।
ইতোমধ্যে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের নজরও কাড়তে শুরু করেছেন তিনি। ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল তাকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে লিল গত বছরই তার চুক্তি নবায়ন করেছে এবং তাকে কিনতে আগ্রহী ক্লাবগুলোর কাছ থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরো দাবি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের কেউ কেউ ইতোমধ্যেই তাকে স্পেনের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেটসের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের মতে, বুয়াদি একসঙ্গে রক্ষণ সামলাতে, আক্রমণ গড়তে, বল নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ম্যাচের গতি নির্ধারণ করতে পারেন—যা তার বয়সের তুলনায় অসাধারণ।
বিশ্বকাপে মরক্কোর সামনে এখনও স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ বাকি। সেখানে যদি বুয়াদি একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তাহলে মরক্কো আবারও বিশ্বকাপে চমক দেখাতে পারে। আর বিশ্ব ফুটবল হয়তো পেয়ে যাবে তার পরবর্তী বড় সুপারস্টারকে।
বাংলা টেলিগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস












































