Search
Close this search box.
Search
Close this search box.

কোনো আপসোস নেই কামারুজ্জামানের

kamruzzaman_pran

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের কোনো আপসোস নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। শুধু তার একটাই দুঃখ যে, মিথ্যা বলে সারা দুনিয়ায় তার সম্মানহানি করা হয়েছে।

chardike-ad

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল ১০টা ২২ মিনিটে তাজুলের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধিদল কারাগারে প্রবেশ করে। সেখানে তারা কামারুজ্জামানের সঙ্গে ১ ঘণ্টা বৈঠক শেষে ১১টা ২২ মিনিটে বের হয়।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভেতরে মাত্র ২০ মিনিট সময় পেয়েছি কামারুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলার জন্য। এই ২০ মিনিটে তার আইনগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেছেন, জাজমেন্টে তার সাজা বহাল আছে কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন এবং তিনি জানেন যে, তিনি নির্দোষ। যে সাজা দেওয়া হয়েছে এতে তার কোনো দুঃখ নেই এবং কোনো আপসোসও নেই। তার শুধু দুঃখ এটাই যে, তিনি নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও ১৯৭১ সালে মাত্র এইচএসসির ছাত্র হওয়ার পরেও সারা দুনিয়ায় যেভাবে তাকে চিত্রায়িত করা হয়েছে, সেটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় কষ্ট।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু একজন বিচারক রায়ের ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, সেই পয়েন্টগুলো ও সুপ্রিম কোর্টের পয়েন্টগুলো তুলে ধরে কামারুজ্জামান রিভিউ পিটিশন দায়ের করতে বলেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, রিভিউ পিটিশনে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। ন্যায়বিচার যদি তিনি পান তবে অবশ্যই তিনি খালাসপ্রাপ্ত হবেন। কারণ তিনি জানেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। কামারুজ্জামান জাতির কাছে ও দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মোটেও তিনি ভীতসন্ত্রস্ত নন। তিনি মানসিকভাবে সুস্থ আছেন। তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মার্সি পিটিশন করার এখনই প্রশ্নই আসে না। কামারুজ্জামানের রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হবে। সে বিষয়ে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। আর যেহেতু ১৫ দিন সময় আছে, তাই এ সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় রিভিউ পিটিশন দায়ের করা হবে। সেখানে যদি মাননীয় আপিল বিভাগ সাজা বহাল রাখেন, তখন তিনি হয়তো মার্সি পিটিশনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। এই রিভিউ পিটিশন দাখিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার ১ ঘণ্টা পূর্বেও রায় কার্যকর করা যাবে না। কোনো নিয়মও নেই। যদি কোনো সরকারি আইন কর্মকর্তা এ ব্যাপারে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন তবে বুঝতে হবে তিনি জেনে-শুনে অন্যায় করছেন অথবা তার অজ্ঞতা রয়েছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটি শেষ সাক্ষাৎ নয়, সেহেতু জনাব কামারুজ্জামান এখনই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি বলতে রাজি হননি। তবে পরিবার ইচ্ছা করলে সাক্ষাৎ করতেই পারে। তবে তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলেননি। তিনি প্রচণ্ডভাবে আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলেছেন যে, আপিল বিভাগে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।’

উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলীসহ চারজন কামারুজ্জামানের কনডেম সেলে গিয়ে পরোয়ানা পড়ে শোনান। কামারুজ্জামান তাদের কাছে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির বেঞ্চ কামারুজ্জামানের আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় দেন। এর আগে গত বছরের ৩ নভেম্বর কামারুজ্জামানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখে এ রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। তারও আগে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।