যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ অর্থনৈতিক সম্পর্কে ঝড়ের আভাস

International handshake

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ট্রান্সআটলান্টিক ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ (টিটিআইপি) চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরালো করতে চায় মার্কিন প্রশাসন। তবে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় তিন বছরের প্রয়াস চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছে না। বরং অ্যাপল ও ডয়েচে ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, এয়ারবাস ও বোয়িং নিয়ে বৈরিতা এবং আটলান্টিকের দুই পাড়ে নির্বাচনী ব্যস্ততা— সবকিছু মিলিয়ে দুপক্ষের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো অবনতির দিকে এগোচ্ছে। খবর এএফপি।

গত মাসের শেষের দিকে এক রায়ে আইরিশ কর্তৃপক্ষকে ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার কর পরিশোধের জন্য অ্যাপলকে নির্দেশ দেয় ইইউ। এ ঘটনায় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের এ ক্ষোভ এখন পর্যন্ত কমেনি।

এ ব্যাপারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যাকব লু একাধিকবার হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি ইইউর সিদ্ধান্তের প্রকাশ্য সমালোচনাও করেছেন। লু অভিযোগ করেছেন, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তারা সামঞ্জস্যহীনভাবে কেবল মার্কিন কোম্পানিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

এদিকে বন্ধকি সিকিউরিটিজ ব্যবসা নিয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ডয়েচে ব্যাংকের দ্বন্দ্ব চলছে অনেক দিন ধরেই। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটির কাছে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার দাবি করেছে। বিষয়টি ইউরোপীয় কর্তাব্যক্তিদের বেশ ক্ষেপিয়ে দিয়েছে। অনেকে দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু বিদেশী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।

এয়ারবাসকে অব্যাহতভাবে সরকারি ভর্তুকি দেয়ার অভিযোগ এনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) শরণাপন্ন হয় যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহে এ ব্যাপারে ডব্লিউটিওর দেয়া একটি রায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যায়। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত না হলেও কাগজে-কলমে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ইউরোপের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।

সর্বোপরি যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ অর্থনৈতিক বিরোধ চরমে পৌঁছেছে টিটিআইপি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে। মার্কিন প্রশাসন চায় চলতি বছরের মধ্যেই চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে। অন্যদিকে ইউরোপীয়দের অনেকে এ চুক্তির ঘোরবিরোধী। তারা একে বাস্তবতাবর্জিত বলে আখ্যা দিয়েছে।