সোমবার । এপ্রিল ২০, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

শূন্য হাতে আরও ৩৬ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো যুক্তরাষ্ট্র


bangladeshi

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিরা।

অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে এক নারীসহ এসব বাংলাদেশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ফেরত আসাদের অনেকেই প্রবাসে উন্নত জীবনের আশায় পরিবার-পরিজনের জমি, গয়না বিক্রি কিংবা ঋণ নিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। জনপ্রতি কেউ ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা, আবার কেউ কেউ ৬০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করলেও শেষ পর্যন্ত স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে তাদের।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহযোগিতায় ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের পরিবহনসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হয় বলে জানান ব্র্যাকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান।

ফেরত আসা ৩৬ জনের মধ্যে নোয়াখালী জেলার ২১ জন, লক্ষ্মীপুরের ২ জন এবং মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, লালমনিরহাট, শরীয়তপুর, বরগুনা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নেত্রকোনা জেলার একজন করে রয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৩ জনে।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা অধিকাংশই প্রথমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। পরে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন তারা। আশ্রয়ের আবেদন করলেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তাদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন প্রশাসন।

ফেরত আসা নোয়াখালীর জাহিদুল ইসলাম জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আশায় দালালদের হাতে প্রায় ৮০ লাখ টাকা তুলে দিয়েছিলেন তিনি। গাজীপুরের সুলতানা আক্তার নামের এক নারী জানান, ব্রাজিল হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত পার হতে দালালদের ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন, কিন্তু সবই বৃথা গেছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান নোয়াখালীর মির হাসান (৫৫ লাখ), রিয়াদুল ইসলাম (৫০ লাখ) ও রাকিব (৬০ লাখ টাকা)।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফেরত আসা অনেকেই প্রথমে ব্রাজিলে গেছেন এবং পরে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার যখন ব্রাজিলে বৈধভাবে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দিচ্ছে, তখন তারা সেখানে কাজ করতে যাচ্ছেন নাকি অবৈধ পথে অন্য দেশে যাওয়ার উদ্দেশ্য আছে—তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে মোট ১ হাজার ৩২০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেছেন, যার মধ্যে নোয়াখালী জেলারই ৯৫১ জন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। এ কারণে নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারকে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একাধিক দফায় নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালতের রায় বা প্রশাসনিক আদেশে প্রত্যাবাসন করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ায় চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটের ব্যবহারও বেড়েছে।