sentbe-top

৭ প্রধান দেশ থেকে কমেছে রেমিট্যান্স

remittanceপ্রবাসী আয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা ৭টি প্রধান দেশ থেকে রেমিট্যান্স কমেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কুয়েত, যুক্তরাজ্য এবং ওমান থেকে এবারে রেমিট্যান্স কম এসেছে। প্রবাসী আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে এসব দেশ থেকে। জ্বালানি তেলের দরপতনই রেমিট্যান্স কমার মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত (২০১৬-১৭) অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার। নানামুখী উদ্যোগের পরও গত (২০১৬-১৭) অর্থবছরে প্রবাসী আয় কমেছে সাড়ে ১৪ শতাংশ। গত ৫ বছরে এটিই সর্বনিম্ন প্রবাসী আয়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে এসব অঞ্চলের প্রবাসীদের মজুরি কমেছে। এছাড়া ডলারের সঙ্গে বেশকিছু দেশের স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন, সৌদি আরবে আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) সংক্রান্ত খরচ বৃদ্ধি, প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিদেশে স্থায়ী হওয়া ও অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতাকেও রেমিট্যান্স কমার কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

Abu-Dhabi-Labourবাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৩০ কোটি ৭১ লাখ ডলার। যেখানে এর আগের অর্থবছরে এসেছিল ৮৫৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ১২৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। শুধু মধ্যপ্রাচ্যের দেশ নয়, রেমিট্যান্স কমেছে ইউরোপ-আমেরিকার দেশ থেকেও। গত অর্থবছরে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো থেকে প্রবাসী আয় এসেছে ৫৪৬ কোটি ২২ লাখ ডলার। যেখানে আগের অর্থবছরে এসেছিল ৬৩৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার। এ অঞ্চল থেকে রেমিট্যান্স কমেছে ৯১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব থেকে গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) ২২৬ কোটি ৭২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যেখানে আগের অর্থবছরে এসেছিল ২৯৫ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। আরব আমিরাত থেকে এসেছে ২০৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে এসেছিল ২৭১ কোটি ১৭ লাখ ডলার। কুয়েত থেকে ১০৩ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। যেখানে আগের অর্থবছর এসেছিল ১০৪ কোটি ডলার। ওমান থেকে এসেছে ৮৯ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। আগের অর্থবছর এসেছিল ৯০ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরে এসেছিল ২৪২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৮০ কোটি ৮১ লাখ ডলার। আগের অর্থবছর এসেছিল ৮৬ কোটি ৩২ লাখ ডলার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহ অর্থসূচককে বলেন, রেমিট্যান্স বাড়াতে আমরা বেশকিছুদিন ধরেই নানা ধরণের উদ্যোগ নিয়ে আসছি। রেমিট্যান্স সেবার মান বাড়াতে ব্যাংকগুলোকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সম্প্রতি ফি কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স ফি কমিয়ে আনার বিষয়ে সরকার দ্রুতই পদক্ষেপ নেবে। অর্থসূচক

sentbe-top